গাড়ি ও কল-কারখানার ধোঁয়া, খোলা জায়গায় ময়লা পোড়ানো সব মিলেই দূষণ বেড়ে যাচ্ছে।
Published : 02 Dec 2025, 09:09 PM
এ বছর ঈদের ছুটিতে আমি সিঙ্গাপুরে ঘুরতে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়ে মনে হয়েছিল যেন একদম নতুন এক দুনিয়ায় ঢুকে পড়েছি।
সেখানের রাস্তাঘাট খুবই পরিষ্কার, গাছপালা সবুজ, স্বচ্ছ আকাশ আর বাতাস ছিল একেবারেই ধুলামুক্ত। হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল শ্বাস নেওয়ার পর বুক স্নিগ্ধতায় ভরে যাচ্ছে। সেই শহরের স্বচ্ছ আর ঠান্ডা বাতাস যেন হাসিমুখে আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল।
ভ্রমণ শেষে যখন ঢাকায় ফিরলাম, তখন এই পার্থক্যটা আরও বেশি বুঝতে পারলাম। আমাদের এখানে বাইরে বের হলেই চোখ জ্বালা-পোড়া করে, অনেক সময় কাশি আসে, আবার গলার ভেতর খচখচে অনুভূতি হয়।
মনে প্রশ্ন জাগে সিঙ্গাপুরের সেই শান্ত আর পরিষ্কার বাতাস আমরা ঢাকায় কেন পাই না? ঢাকার বাতাসে এত ধোঁয়া আর ধুলা কেন জমে আছে?
যদিও এজন্য আমরাই দায়ী। গাড়ি ও কল-কারখানার ধোঁয়া, খোলা জায়গায় ময়লা পোড়ানো সব মিলেই দূষণ বেড়ে যাচ্ছে। আর এতেই আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি, বিশেষ করে যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাদের জন্য তো এই বাতাস আরও কষ্টকর।
তবুও আমার মনে আশা আছে। আমরা চাইলে ঢাকার বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে পারি। এজন্য দরকার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।
ঢাকার অদূরে অনেক জায়গাতেই ময়লা পোড়ানো হয়। আমার মনে হয় সিটি করপোরেশন এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়াও গাড়ি আর কল-কারখানার দূষণ কমাতে মালিকপক্ষকে কঠোরভাবে নিয়ম মানতে বাধ্য করলে দূষণ অনেকটাই কমানো যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
বিশুদ্ধ বাতাস আমাদের জন্য যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আগে সবাইকে বুঝতে হবে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ছোট ছোট উদ্যোগও ঢাকার বাতাসকে নিরাপদ করে তুলতে সাহায্য করবে বলে আমার ধারণা।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।