চিকিৎসকের মতে, দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকলে ফুসফুসের স্থায়ী জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
Published : 02 Dec 2025, 05:44 PM
শীত এলেই বায়ুদূষণ 'অত্যধিক' মাত্রায় পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত- ছয় মাসে সারা বছরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বায়ুদূষিত হয়। এতে বাড়ে শিশুদের ভোগান্তি। তাদেরকে কাশি, শ্বাসকষ্টের মত নানা শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
শীত আসার আগে আগেই ঠান্ডা আর শ্বাসকষ্টে ভোগে সামিয়া রহমান নামের এক কিশোরী। রাজধানীর কুড়িলে পরিবারসহ বাস করে সে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানায়, এটা তার সঙ্গে প্রতি বছরই ঘটে।
সে বলছিল, "কয়েকদিন ধরে ক্লাসে ঠিকমতো মনোযোগও দিতে পারছি না। কাশি আর শ্বাসকষ্টে বারবার বিরতি নিতে হয়। অন্য সময়গুলোতে ঠিক থাকি, কিন্তু শীত হলেই মনে হয় ধুলা যেন আরও বেশি আমাকে অসুস্থ করে দেয়।”
সামিয়ার মা জেসমিন আক্তার বলেন, “শীত এলেই মেয়ের সমস্যা শুরু হয়। আমাদের এলাকায় নির্মাণকাজ আর রাস্তার ধুলা-বালু যেন এই সময়ে আরও বেড়ে যায়। বাইরে একটু গেলেই নাক চুলকায়, রীতিমতো শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সবসময় সঙ্গে ইনহেলার রাখতে হয়।"
প্রায় একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইনায়া ইফতিকে।
“আমাদের মিরপুরে ধুলার অবস্থা সবসময়ই খারাপ থাকে। কিন্তু শীত এলে আমি সবচেয়ে ভয় পাই। কয়েকদিন ধরে কাশির জন্য রাতে ঘুমাতেই পারি না। মা সবসময় মাস্ক পরিয়ে দেয়, কিন্তু শীতের সময় ধুলা এত বেশি থাকে যে মনে হয় একটু বের হলেই আবার অসুস্থ হয়ে যাব।”, বলে সে।
ঢাকার বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে হ্যালো।
শীতকালের আবহাওয়া শুষ্ক বলে এ সময় বায়ুদূষণ বেশি থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, "অক্টোবর থেকে মার্চ এই পাঁচ-ছয় মাস অত্যাধিক মাত্রায় দূষণ লক্ষ্য করা যায়। সারা বছরের প্রায় ৬০-৬৫ ভাগ দূষণ এই সময়ে হয়ে থাকে।"
তিনি আরও বলেন, "এলাকাভিত্তিক চিন্তা করলে, ঢাকার সবখানেই বায়ুদূষণের মাত্রা প্রায় একই থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার যে এলাকায় নির্মাণ কাজ চলে সেখানে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এর শিকার হচ্ছে।"
এরকম পরিস্থিতি শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।
হ্যালোকে তিনি বলেন, “শিশুদের শ্বাসতন্ত্র বড়দের মত পরিপক্ক না। এজন্য বায়ুদূষণের কারণে তাদের শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো বাড়ে। প্রায় প্রায় দেখা যায় তাদের সর্দি-কাশি লেগে থাকে, শুষ্ক কাশির জন্য সারারাত ঘুমাতে পারে না। এছাড়াও অ্যাজমা, নিউমোনিয়া হয়।”
সতর্ক করে এই চিকিৎসক বলেন, দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকলে ফুসফুসের স্থায়ী জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা শাখার উপপরিচালক বেগম শাহানাজ রহমান হ্যালোকে জানান, বায়ুদূষণ এড়াতে তারা কর্তৃপক্ষকে নিজেদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি 'হটস্পট' চিহ্নিত করে সেখানে বায়ুদূষণ বাড়ে এমন কাজ না করার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “সিটি করপোরেশনকে পানি ছিটাতে, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট করতে টাইম টু টাইম অবহিত করছি। জনসাধারণেরকেও সচেতন করছি।"
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।