ন্যানো প্লাস্টিক ইতোমধ্যে মানুষের রক্ত, মল ও ফুসফুস এমনকি প্লাসেন্টাতেও পাওয়া গেছে বলে জানান গবেষকেরা।
Published : 30 Sep 2026, 02:35 PM
তৃষ্ণা মেটাতে আমরা পানি পান করে থাকি। বাড়ির বাইরে গেলে কখনো কখনো বোতলজাত পানিও পান করতে হয় আমাদের। কিন্তু, এই বোতলজাত পানি কতটুকু নিরাপদ তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। ‘বোটলট ওয়াটার প্যাকড উইথ ন্যানো প্লাস্টিক, স্টাডি ফাইন্ডস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, এক লিটার বোতলজাত পানিতে থাকতে পারে গড়ে দুই লাখ ৪০ হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি। যার ৯০ শতাংশ ন্যানো প্লাস্টিক এবং এগুলো এত ক্ষুদ্র যে মাইক্রোস্কোপেও দেখা যায় না।
এই গবেষণা দলের সদস্য রসায়নবিদ বেইজান ইয়ান জানান, পরীক্ষায় তিনটি জনপ্রিয় মার্কিন ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানিতে এক লক্ষ ১০ হাজার থেকে তিন লক্ষ ৭০ হাজার পর্যন্ত প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০১৮ সালেও বোতলজাত পানিতে ন্যানো প্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছিল। সেই গবেষণা দলের সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বেহরেন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের পরিচালক শেরি সাম মেশন জানান, তাদের গবেষণায় বিশ্বের নয়টি দেশের ১১টি ব্র্যান্ডের পানির ৯৩ শতাংশেই প্লাস্টিক কণিকার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে সে সময় ন্যানো প্লাস্টিকের কণা বিশ্লেষণের সক্ষমতা ছিল না।
ন্যানো প্লাস্টিকের ভয়াবহতা সম্পর্কে এই গবেষক বলেন, “এই কণাগুলো আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা ফুসফুস পেরিয়ে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এমনকি এটি কোষের মধ্যেও প্রবেশ করতে সক্ষম।”
ন্যানো প্লাস্টিক ইতোমধ্যে মানুষের রক্ত, মল ও ফুসফুস এমনকি প্লাসেন্টাতেও পাওয়া গেছে বলে জানান গবেষকেরা।
তাদের মতে, বোতলের পিইটি প্লাস্টিক থেকেই কিছু কণিকা ছড়ায়। বিশেষ করে বারবার বোতলের ঢাকনা খোলা-বন্ধ করলে অথবা গাড়ির মত গরম পরিবেশে রাখলে। তবে বাকিগুলো কোথা থেকে আসে তা এখনো গবেষণাধীন। ধারণা করা হচ্ছে, পানির উৎস বা বোতলজাত করার প্রক্রিয়াতেও এসব কণিকা প্রবেশ করতে পারে।
এই বিষয়ে গবেষকদের পরামর্শ, আমরা যদি প্লাস্টিক পাত্রে সংরক্ষিত খাদ্যদ্রব্য ও পানিগ্রহণ কমিয়ে দিই, প্রাকৃতিক কাপড় ও সামগ্রী ব্যবহার করি, তাহলে কিছুটা হলেও ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।