প্রতি ১০ জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে অন্তত একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এতটাই সময় কাটায়, যা তার দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
Published : 29 Sep 2026, 01:35 PM
ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আমাদের অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। এসব প্ল্যাটফর্ম যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি বাড়িয়েছে উদ্বেগও।
২০২৪ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রতি ১০ জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে অন্তত একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এতটাই সময় কাটায়, যা তার দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই অবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘সমস্যাজনক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার’। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্যবহার না করলে অস্বস্তি লাগা, অন্য কাজ বাদ দিয়ে ফোনে সময় দেওয়া এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা।
মেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ শতাংশ মেয়ে এবং ৯ শতাংশ ছেলে এই সমস্যায় আক্রান্ত।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৫ বছর বয়সী অনেক কিশোর-কিশোরী বন্ধুদের সঙ্গে প্রায় সবসময় অনলাইনে যুক্ত থাকে। এতে বাস্তব জীবনের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এই অনলাইন নির্ভরতা শুধু যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা এবং পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি।
ডিজিটাল গেইমিংয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রায় ৩৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন গেইম খেলে, আর তাদের মধ্যে ২২ শতাংশ দিনে অন্তত ৪ ঘণ্টা সময় গেইমিংয়ে ব্যয় করে।
এতে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যায় ছেলেরা বেশি ভোগে। ছেলেদের মধ্যে এই হার ১৬ শতাংশ, যেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি মাত্র ৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে ভারসাম্য রাখতে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। প্রযুক্তি ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, ডিজিটাল শিক্ষা এবং পরিবারে খোলামেলা আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: ঢাকা।