মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা, দ্রুত নগরায়ণ, ব্যাপক শিল্পায়ন এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য অপসারণে দুর্বল তদারকির কারণে এখানকার শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
Published : 22 Sep 2026, 12:40 PM
বিশ্বে সিসাদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার সমমূল্যের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়। বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ শিশুর আবাসস্থল দক্ষিণ এশিয়ায় এই ক্ষতির ঝুঁকি তাই অনেক বেশি।
ইউনিসেফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিশাল সংখ্যার প্রায় অর্ধেক শিশুর বাস দক্ষিণ এশিয়ায়।
মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা, দ্রুত নগরায়ণ, ব্যাপক শিল্পায়ন এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য অপসারণে দুর্বল তদারকির কারণে এখানকার শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর সিসার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সিসা শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আঘাত হানে, তবে এর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। শিশুদের মস্তিষ্ক যেহেতু বাড়ন্ত পর্যায়ে থাকে, তাই সিসার ফলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে সিসা শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে, রক্তশূন্যতা তৈরি করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কমে যেতে পারে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিও।
এছাড়া মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি সিসাদূষণের প্রভাবে শিশুর আচরণগত সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসার সংস্পর্শে থাকা শিশুরা প্রায়ই পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ব্যর্থ হয় এবং পরবর্তী জীবনে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে।
দরিদ্র পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই অদৃশ্য বিষের প্রভাব আরও করুণ। শুধু তাই নয় সিসাদূষণ দেশীয় উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও বাধা দেয়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: রংপুর।