আইইউসিএনের ওই মূল্যায়নে বলা হয়, গত ৩১ বছরে আফ্রিকান বন হাতির সংখ্যা ৮৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
Published : 30 Sep 2026, 11:35 AM
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণী হাতি। বিশাল দেহ, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাণিজগতের সবচেয়ে পরিচিত প্রাণীদের অন্যতম এটি। তবে এই অসাধারণ প্রাণী এখন নানা হুমকির মুখে।
বর্তমানে পৃথিবীতে হাতির তিনটি প্রজাতি রয়েছে। আফ্রিকান সাভানা হাতি, আফ্রিকান বন হাতি এবং এশীয় হাতি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হাতির শুঁড় প্রাণিজগতের অন্যতম বিস্ময়। এপির তথ্য অনুযায়ী, একটি হাতির শুঁড়ে প্রায় দেড় লাখ পেশি থাকে। এই শুঁড় দিয়েই তারা খাবার সংগ্রহ করে, পানি পান করে এবং নানা সূক্ষ্ম কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) ২০২১ সালের রেড লিস্ট মূল্যায়নে আফ্রিকান বন হাতিকে 'চরম বিপন্ন' এবং আফ্রিকান সাভানা হাতিকে 'বিপন্ন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
আইইউসিএনের ওই মূল্যায়নে বলা হয়, গত ৩১ বছরে আফ্রিকান বন হাতির সংখ্যা ৮৬ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে গত ৫০ বছরে আফ্রিকান সাভানা হাতির সংখ্যা কমেছে অন্তত ৬০ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হিসেবে চোরাশিকার এবং আবাসস্থল হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আফ্রিকা থেকে এশিয়া, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের হাতিই এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশে পাওয়া যায় এশীয় হাতি, আর এই প্রজাতিটিও নানা হুমকির মুখোমুখি।
বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৬ সালের একটি সমীক্ষায় দেশে প্রায় ২৬৮টি স্থায়ী বন্য হাতি এবং ৯৩টি বিচরণশীল বা সীমান্ত অতিক্রমকারী হাতির উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। একই সমীক্ষায় ১২টি হাতি করিডোরও চিহ্নিত করা হয়।
আইইউসিএন বাংলাদেশের ওই প্রকাশনায় এশীয় হাতিকে বৈশ্বিকভাবে 'বিপন্ন' এবং বাংলাদেশে 'মহাবিপন্ন' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতি সংরক্ষণে চোরাশিকার নিয়ন্ত্রণ, আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই প্রাণীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।