বিশ্বজুড়ে এখনো পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন নিবন্ধনের আওতার বাইরে।
Published : 30 Sep 2026, 06:25 PM
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জন্মনিবন্ধন নিয়ে তথ্য সংগ্রহের পরিধি আগের চেয়ে বাড়লে এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
একটি দেশের জন্মহারের সঠিক হিসাব রাখতে কার্যকর ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন’ বা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তবে অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী নয়। তাই অনেক দেশ এখনও পারিবারিক জরিপের ওপর নির্ভর করছে।
অবশ্য গত আড়াই দশকে বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে এই জরিপ পরিচালনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে এখনো পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন নিবন্ধনের আওতার বাইরে। এই সংখ্যা প্রায় ১৬৬ মিলিয়ন বা ১৬ কোটি ৬০ লাখ।
আবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে জন্মনিবন্ধনের হার ৫০ শতাংশ। অথচ বৈশ্বিক জন্মনিবন্ধনের গড় হার ৭৭ শতাংশ।
এর পেছনে বেশকিছু কারণও রয়েছে। সঠিক নিবন্ধনের অভাব, প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, দুর্গম এলাকা এবং নানা ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এতোসংখ্যক শিশু নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়েছে বলে মনে করা হয়।
জন্মনিবন্ধন মানেই কি জন্ম সনদ পাওয়া?
জন্ম নিবন্ধন মানেই কিন্তু হাতে সনদ থাকা নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর জন্ম নথিভুক্ত হলেও তার কাছে কোনো প্রমাণপত্র নেই। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০৮ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ৮০ লাখ শিশু নিবন্ধিত হলেও, তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বা ৭ কোটি শিশুর হাতে কোনো সনদ নেই।
অথচ, পাসপোর্টসহ জীবনের অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির জন্য এই ‘জন্ম সনদ’ ‘মূল চাবিকাঠি’ হিসেবে কাজ করে। তাই জন্মের পরপরই সনদটি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া নিশ্চিত করা খুব জরুরি।
সময়মত কেন নিবন্ধন প্রয়োজন
অধিকাংশ দেশেই জন্মের পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব নিবন্ধন সম্পন্ন করা উচিত।
সাধারণত সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করাকে আদর্শ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে তথ্য ভুল হওয়ার বা নিবন্ধন বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে না।
জন্মনিবন্ধন নিয়ে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা
গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে জন্ম নিবন্ধনের হার বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে ১০ জনের মধ্যে ৬ জন শিশুর নিবন্ধন হত, সেখানে এখন ৪ জনের মধ্যে ৩ জন শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে। তবে এই অগ্রগতি সব ক্ষেত্রে সমান নয়।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তাই ২০৩০ সালের মধ্যে সব শিশুর জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে এবং সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
শুধু নিবন্ধনের হার বাড়ালেই হবে না, পুরো ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নত করতে হবে। তথ্য যেন গোপন ও নিরাপদ থাকে এবং মানুষ যেন সহজেই তাদের প্রয়োজনে এই তথ্য খুঁজে পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিও হতে হবে অত্যন্ত সহজ ও সবার জন্য হাতের নাগালে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: রংপুর।