দূরে দেখা যাচ্ছিল ভারতের ডাউকি পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা আর বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু।
Published : 09 Apr 2026, 12:13 PM
গেল বছরের ৩১ ডিসেম্বর। সবাই তখন নতুন বছরকে বরণ করতে ব্যস্ত। আর ঠিক এই সময়টাতেই সিলেট ও সুনামগঞ্জ ঘুরে আসার পরিকল্পনা করি আমরা। রাত ৮টার বাসে খুলনা থেকে সুনামগঞ্জের ছাতকের উদ্দেশ্যে রওনা হই। প্রায় ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে পরদিন সকালে পৌঁছাই ছাতকে।
এটি ছিল আমাদের পারিবারিক ভ্রমণ। তবে ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল একটু ভিন্ন। আমার বাবা ছাতকের সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। সেই স্কুলের ৫০তম পুনর্মিলনী আয়োজনে অংশ নিতেই মূলত সেখানে যাওয়া।
২ ও ৩ জানুয়ারি পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান উপভোগ করার পর ৪ জানুয়ারি আমরা সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরতে বের হই। আমাদের সঙ্গে যোগ দেন বাবার দুই বন্ধু ও তাদের পরিবার। সব মিলিয়ে আমরা ১১ জনের একটি বড় দলে পরিণত হই।
সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত জাফলং পর্যটনকেন্দ্র। এটিই ছিল আমাদের মূল গন্তব্য। সেখানে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে লালাখালের স্বচ্ছ নীল জল। যতই জাফলংয়ের দিকে এগোচ্ছিলাম পাহাড়গুলো যেন ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলংয়ের রূপ আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করে।

জাফলংয়ের চারদিকে শুধু পাথর আর পাথর। শীতকাল হওয়ায় নদীর পানি কিছুটা কম থাকলেও সৌন্দর্যে কোনো কমতি ছিল না। দূরে দেখা যাচ্ছিল ভারতের ডাউকি পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা আর বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু।
জাফলংয়ে আমার ভ্রমণের সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত ছিল নৌকা ভ্রমণ। পিয়াইন নদীর তলদেশে থাকা পাথর আর বালুর রং আমাকে মুগ্ধ করে। ফেরার আগে আমরা খাসিয়া পল্লীও ঘুরে আসি।
পরের দিন আমরা ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও রাতারগুলে যাই। এই দুইটি স্থানও ছিল খুব সুন্দর।
এই ভ্রমণে আমরা হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারও ঘুরে দেখি।
ভ্রমণের শেষ দিনটি কেটেছে শ্রীমঙ্গলে। সেখানে দিগন্তজোড়া চায়ের বাগান দেখে আমার দুই চোখ জুড়িয়ে যায়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: খুলনা।