আমাদের দেশের অনেক পরিবারেই ছেলে ও মেয়ের বেলায় দেখা যায় দুই রকমের নীতি।
Published : 17 Apr 2026, 08:37 PM
আমার কাছে নারী ও পুরুষ একটি গাড়ির পাশাপাশি দুটি চাকার মত। একটি গাড়ি সঠিকভাবে চলতে যেমন দুইটি চাকাকেই সমান গতিতে চলতে হয়, তেমনই সমাজের অগ্রগতির জন্য নারী ও পুরুষের সমান তালে তলার বিকল্প নেই
গাড়ির চাকা দুইটি সমান না হলে তা যেমন চলতে পারে না, আমাদের সমাজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমন। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় আমাদের সমাজ আজও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
আমাদের দেশের অনেক পরিবারেই ছেলে ও মেয়ের বেলায় দেখা যায় দুই রকমের নীতি।
বাবা মায়ের আচরণেই বৈষম্য প্রকাশ পায়। একটা উদারহণ দেওয়া যাক। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো মাকে তার সন্তান কয়জন জানতে চাওয়া হলে তিনি বেশ হাসিমুখে বলেন, এক ছেলে। খানিক পরেই আবার কিছুটা মলিন মুখে যোগ করেন এক ছেলের সঙ্গে তিন মেয়ে। সন্তানের পরিচয় প্রকাশে এই যে পার্থক্য তা শুরু হয় মায়ের মুখ থেকেই।
এমনকি জন্মের আগেই শুরু হয় বৈষম্য। গর্ভবতী মাকে পরীক্ষা করে অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা জানতে চাপ দেওয়া হয়। ছেলে হবে শুনলে সবার মুখ খুশিতে ভরে ওঠে, আর মেয়ে হওয়ার খবরে কালো হয়ে যায় সবার মুখ।
বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই। ছেলে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইলে মা-বাবা বেশ খুশি হন। তাদের ধারণা, ছেলে বড় হচ্ছে বলে তার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। কিন্তু মেয়ের বেলায় থমকে যায় সব আলাপ। তাকে বাইরে যেতে দেওয়া হয় খুবই কম।
লেখাপড়ার বিষয়েও আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো সেকেলে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, মেয়ে বড় হয়ে চাকরি করলে সেই লাভের ভাগ পাবে শ্বশুরবাড়ি। তাই তাকে বেশি পড়িয়ে কী হবে? এই সংকীর্ণ চিন্তা এখনো সমাজে জেঁকে বসে আছে।
নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা শুনতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের সমাজ এমনকি পরিবারেও এর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: চাঁদপুর।