এই পেশা শুধু শ্রমসাধ্যই নয় স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
Published : 13 May 2025, 09:39 PM
একসময় শহর ও গ্রামের প্রতিটি ঘরে ছিল মসলা বাটার শিলপাটা। রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল পাথর বা সিমেন্টের তৈরি এই যন্ত্র। কিন্তু সময় বদলেছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্লেন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। ফলে সংকটে পড়েছে শিলপাটা খুঁটানোর পেশাটি।
এই তো সেদিন শুনতে পাচ্ছিলাম, একজন উচ্চস্বরে বলছিলেন, ‘শিলপাটা ধার করি’। রান্নাঘর থেকে মা ডেকে বললেন, আমাদের শিলপাটা আর দা-বঁটিতে ধার দেওয়া দরকার।
এরপর আমি ওই মানুষটিকে ডেকে আনি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে অনেক কথাও হয় তার সঙ্গে।
জানালেন, এখন আর আগের মত কাজ থাকে না। দৈনিক হাতেগোনা কয়েকটা শিলপাটা খুঁটিয়ে চলে তার দিন। আয়ের পরিমাণ দিনে গড়ে দুইশ থেকে তিনশ টাকা। যে টাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শিলপাটার পাশাপাশি তিনি দা-বঁটি এমনকি কাঁচি শাণ দেওয়ার কাজও করেন।
এই পেশা শুধু শ্রমসাধ্যই নয় স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তিনি বলছিলেন, ধার দেওয়ার সময় পাথরগুঁড়া ও ধুলা শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করার ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগতে হয় তাদের। তবুও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই পেশাকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
তার কাছে আরও জানতে পারি, ধার দেওয়ার যন্ত্রপাতি কিনতেও অনেক টাকা খরচ হয়। শাণ পাথরসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দামও দিন দিন বাড়ছে। আয়ের তুলনায় এই ব্যয় অনেক বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে সামান্য আয় দিয়ে শহরের বাড়ি ভাড়া, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বললেন, সরকারের আর্থিক সহায়তা বা অন্য কোনো কাজের প্রশিক্ষণ বা সুযোগ পেলে হয়ত বিকল্প পেশায় যেতে পারতেন। কিন্তু এই সম্ভাবনাটুকুও ক্ষীণ।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।