কার্টুন বা ছড়া দেখতে দেখতে শিশুটি হয়ত শান্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়া শিশুর জন্য ভালো না-ও হতে পারে।
Published : 11 Oct 2026, 01:55 PM
আজকাল আমাদের চারপাশে তাকালেই একটি পরিচিত দৃশ্য দেখা যায়। ছোট কোনো শিশু কান্না করছে কিংবা খেতে চাইছে না। তাকে শান্ত করতে বাবা-মা হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন।
কার্টুন বা ছড়া দেখতে দেখতে শিশুটি হয়ত শান্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়া শিশুর জন্য ভালো না-ও হতে পারে।
ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশু-কিশোরকে নিয়ে আইসিডিডিআর,বির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার করে। তাদের গড় স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ছিল দিনে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা।
গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ চোখের সমস্যার কথা জানিয়েছে। ৮০ শতাংশ শিশু মাথাব্যথার কথাও জানিয়েছে।
বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে চোখের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা এবং কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব সমস্যার একমাত্র কারণ স্ক্রিন ব্যবহার, এমনটি এই গবেষণা প্রমাণ করেনি।
আমার নিজের চারপাশেও এমন অনেক শিশুকে দেখি, যাদের দিনের বড় একটি সময় ফোন বা ট্যাবের সামনে কাটে। ফোন না দিলে তারা বিরক্ত হয়, জেদ করে বা কান্না করে। এতে খেলাধুলা, বই পড়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো অন্য কাজের জন্য সময় কমে যেতে পারে।
শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পড়াশোনা, সৃজনশীল কাজ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ফোনের বিকল্প হিসেবে শিশুর হাতে বই, কাগজের খেলনা বা ছবি আঁকার সরঞ্জাম তুলে দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতে হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ। তবে প্রযুক্তি যেন শৈশবের খেলাধুলা, কৌতূহল ও আনন্দের জায়গা দখল করে না নেয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: নোয়াখালী।