আমার দেখা এই ঘটনা থেকে বুঝতে পারি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হলে শুধু বিয়ে বন্ধ করলেই চলবে না। এর পেছনের কারণগুলোও বুঝতে হবে।
Published : 01 Nov 2026, 06:15 PM
আমার এক সহপাঠীর কথা। সে যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে তখন তার মা মারা যায়। মায়ের মৃত্যুর কিছুদিন পরই তার বাবা আবার বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে সে জায়গা পাওয়া হয়নি তার। পরে সে বড় মামার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
সেখানেও মামীর নির্যাতনের কারণে তার পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সে যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে তখন তার মামা তাকে বাল্যবিয়ে দেন।
বিয়ের পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে নানা দুর্ভোগ। বাল্যবিয়ে তো শুধু একটি শিশুর শৈশবই কেড়ে নেয় না। তার মানসিক বিকাশ, শিক্ষা এবং নিজের জীবন গড়ে তোলার সুযোগও সীমিত করে দেয়।
আমার সেই সহপাঠীরও পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বাল্যবিয়ে তার সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিল।
আমার দেখা এই ঘটনা থেকে বুঝতে পারি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হলে শুধু বিয়ে বন্ধ করলেই চলবে না। এর পেছনের কারণগুলোও বুঝতে হবে।
বাবা-মায়ের সম্পর্কের ভাঙন ও পারিবারিক অশান্তির কারণে যেন কোনো শিশুর জীবন অনিশ্চিত হয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবারের অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে কোনো শিশুকে যেন অসহায় অবস্থায় বাল্যবিয়ের দিকে ঠেলে না দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: রাজশাহী।