শেষজ্ঞদের মতে জলাভূমির পরিমাণ কমে গেলে বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়াসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Published : 29 Sep 2026, 06:00 PM
নদী, বিল, হাওর, জলাশয় ও অন্যান্য জলাভূমি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব জায়গা শুধু পানি ধরে রাখে না, মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও নানা সুবিধা দেয়।
তবে বিশ্বজুড়ে জলাভূমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। জলাভূমির বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন গ্লোবাল ওয়েটল্যান্ড আউটলুক ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের পর বিশ্বে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন হেক্টর জলাভূমি হারিয়ে গেছে। যা বিশ্বের মোট জলাভূমির প্রায় ২২ শতাংশ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে জলাভূমি হারিয়ে গেলে মানুষ ও জীববৈচিত্রের ওপর কী ধরনের আঘাত আসবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে জলাভূমির পরিমাণ কমে গেলে বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়াসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক জলাভূমি সংরক্ষণ চুক্তি রামসার কনভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে পারে। এতে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয় এবং বন্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। জলাভূমি হারিয়ে গেলে এই প্রাকৃতিক পানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
জলাভূমিকে নানা উদ্ভিদ ও প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল উল্লেখ করে রামসার কনভেনশন আরও বলছে, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী খাবার ও বেঁচে থাকার জন্য এসব এলাকার ওপর নির্ভর করে। তাই জলাভূমি কমে গেলে জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের হাওর এলাকার অনেক মানুষ কৃষি ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। তাই এসব জলাভূমি রক্ষা করা মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।