বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি সাতজন কিশোর কিশোরীর মধ্যে একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে।
Published : 30 Sep 2026, 04:55 PM
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক চাপ, অনলাইন নির্ভরতা এবং একাকীত্ব শিশুদের মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা সময়মতো শনাক্ত না হওয়ায় তা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি সাতজন কিশোর কিশোরীর মধ্যে একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। সংস্থাটি বলছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের অসুস্থতা ও অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ এখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা।
সংস্থাটি আরও জানায়, কিশোর বয়সে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, সহিংসতা, বুলিং, দারিদ্র্য এবং পারিবারিক সমস্যার প্রভাব ভবিষ্যৎ জীবনেও থেকে যেতে পারে। অনেক শিশু ও কিশোর প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় সমস্যাগুলো অনেক সময় অচিকিৎসিত অবস্থায় থেকে যায়।
বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহায়তায় পরিচালিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী, দেশে ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। এদের বড় অংশই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সহায়তার বাইরে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা সাধারণ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা মানসিক রোগে পরিণত হতে পারে।
সিডিসি জানায়, শিশুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা, ভয়, ঘুমের সমস্যা, স্কুলে যেতে অনীহা, খিটখিটে আচরণ এবং আগ্রহ হারিয়ে ফেলা উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক পরিবার এখনো মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে না। ফলে শিশুর আচরণে পরিবর্তন, অতিরিক্ত রাগ, চুপচাপ হয়ে যাওয়া, বন্ধুদের এড়িয়ে চলা বা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলছে, শিশু ও কিশোর বয়স মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে পরিবার, বিদ্যালয় এবং সামাজিক পরিবেশ ইতিবাচক হলে শিশুর মানসিক বিকাশ ভালো হয়। অন্যদিকে সহিংসতা, অবহেলা এবং বৈষম্য মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
ইউনিসেফ বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশা বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক লজ্জা, সচেতনতার অভাব এবং সেবার সীমাবদ্ধতায় অনেকেই সহায়তা পায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় পরিবার ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।