পুকুর শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ‘ব্লু স্পেস’ বা উন্মুক্ত স্থান।
Published : 11 Oct 2026, 01:00 PM
শহরে বাড়িঘর ও স্থাপনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে খোলা জায়গা। এর মধ্যে অনেক পুরোনো পুকুরও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটি পুকুর হারিয়ে গেলে শুধু পানির জায়গাই কমে না, শহরের পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ে।
পুকুর শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ‘ব্লু স্পেস’ বা উন্মুক্ত স্থান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বলছে, শহরের নদী, হ্রদ বা পুকুরের মত জলাধার মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে। এসব জলাধার আশপাশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
শহরের পুকুরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এটি বৃষ্টির পানি ধরে রাখা।
আন্তর্জাতিক জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘রামসার কনভেনশন’ বলছে, শহুরে জলাভূমি অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি শোষণ করে বন্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। একই সঙ্গে জলাভূমির উদ্ভিদ পানি পরিশোধনেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পুকুর ও অন্যান্য জলাশয় নানা উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থলও হতে পারে। তাই এগুলো সংরক্ষণ শহরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। জলাধার সংরক্ষণে বাংলাদেশে আইনও রয়েছে।
তাই শহরের পুকুরকে শুধু নির্মাণের জন্য খালি জায়গা হিসেবে না দেখে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা দরকার। পুকুর রক্ষা করা মানে একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি ধারণের সুযোগ, জীববৈচিত্র্য এবং বাসযোগ্য শহরের জন্য প্রয়োজনীয় জলাধার রক্ষা করা।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: গাজীপুর।