এই প্রাসাদে রয়েছে দরবার হল, বৈঠকখানা ও অতিথিকক্ষ, যেখানে চলত নবাবদের রাজকীয় জীবন।
Published : 22 Sep 2026, 12:41 PM
পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল।
মঞ্জিলের তথ্যফলক থেকে জানা যায়, এই এলাকাটি ইসলামপুরের কুমারটুলী নামে পরিচিত ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ এখানে ‘রংমহল’ নামে এক প্রমোদভবন তৈরি করেন।
শেখ এনায়েতউল্লাহর মৃত্যুর পর তার ছেলে মতিউল্লাহর কাছ থেকে এটি ফরাসিরা কিনে নিয়ে এখানে একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
এরপর ১৮৩০ সালে ঢাকার নওয়াব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলীমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে কুঠিবাড়িটি কিনে নেন এবং সংস্কার করে এটিকে একটি আবাসিক ভবনে রূপ দেন।
পরবর্তীতে তার ছেলে আবদুল গনি আধুনিক নকশায় সেখানে নতুন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং নিজের ছেলে খাজা আহসানউল্লাহর নামানুসারে এর নাম রাখেন ‘আহসান মঞ্জিল’।
১৮৮৮ সালের ৭ এপ্রিল এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে সংস্কারের সময় বর্তমানে যে সুদৃশ্য গম্বুজটি দেখা যায়, সেটি সংযোজন করা হয়।
এই প্রাসাদে রয়েছে দরবার হল, বৈঠকখানা ও অতিথিকক্ষ, যেখানে চলত নবাবদের রাজকীয় জীবন।
শুধু বাসস্থানই নয়, এটি আহসান মঞ্জিল ছিল ঢাকার প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।
পঞ্চাশের দশকে নবাব হাবিবুল্লাহ প্রাসাদটি ছেড়ে চলে গেলে সংস্কারের অভাবে তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝে ১৯৮৫ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে সংস্কার করে। ১৯৯২ সাল থেকে এটি জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।