তার ভাষ্য, প্রায় ২০ বছর আগের তুলনায় এখন নদীভাঙন ও লবণাক্ততার সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
Published : 30 Sep 2026, 05:55 PM
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কোনো দূর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, এর প্রভাব এখনই দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপ-পরিচালক রউফা খানম। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় রউফা খানম বলেন, আমাদের অপরিণামদর্শী কাজের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক প্রভাব এখনই দেখা যাচ্ছে।
পরিবেশ ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন কেটে ফেললে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে। কারণ গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে।
জলাভূমি ভরাটের কারণেও নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি জলাভূমিতে জমা হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু জলাভূমি ভরাট হয়ে গেলে শহরে পানি সরে যেতে সমস্যা হয়। এতে জলাবদ্ধতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিন উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে রউফা খানম জানান, সেখানে পানিতে ও মাটিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। নদীভাঙনে অনেক জমি নদীগর্ভে চলে গেছে এবং আবাদি জমিরও পরিবর্তন হয়েছে। ঘন ঘন বা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মানুষের জীবিকা ও থাকার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তার ভাষ্য, প্রায় ২০ বছর আগের তুলনায় এখন নদীভাঙন ও লবণাক্ততার সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মানুষের একটি ভুল ধারণার কথাও তুলে ধরেন রউফা খানম।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন এটি ভবিষ্যতের সমস্যা এবং এর জন্য শুধু উন্নত দেশগুলো দায়ী। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখনই মানুষের জীবনে পড়ছে।
ব্যক্তিগত কাজের মাধ্যমেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কিছুটা ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তাই সবাইকে নিজের কাজ ও জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: গাজীপুর।