"অল্প বয়সে গর্ভধারণ করলে মা ও শিশু দুজনেরই অপুষ্টিতে ভোগার আশঙ্কা থাকে।"
Published : 23 Sep 2026, 07:30 AM
বাল্যবিয়ের ফলে একজন কিশোরী নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগতে পারে বলে মনে করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার শান্তা দাস। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, এই কিশোরী যখন গর্ভধারণ করে তখন তার স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
হ্যালো: কৈশোরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কী কী ঝুঁকি থাকে?
শান্তা দাস: কৈশোরে মেয়েদের শরীর তখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠে না। বিশেষ করে কোমরের হাড় গর্ভধারণ ও প্রসবের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই হাড়ের পুরোপুরি বিকাশ হওয়ার আগেই কোনো মেয়ে গর্ভধারণ করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া অল্প বয়সে গর্ভধারণ করলে মা ও শিশু দুজনেরই অপুষ্টিতে ভোগার আশঙ্কা থাকে। শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মাতে পারে, প্রসবের সময়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেমন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রসব হতে বেশি সময় লাগতে পারে। এতে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে, একই সঙ্গে মায়ের মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের তুলনায় কৈশোরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে।
হ্যালো: বাল্যবিয়ে নিয়ে সচেতনতা কতটা বেড়েছে বলে আপনি মনে করেন?
শান্তা দাস: আমরা সচেতনতা নিয়ে অনেক কথা বলি। কিন্তু আসলে আমরা কতটা সচেতন হয়েছি, সেটাই প্রশ্ন। শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, পৌরসভা পর্যায়েও বাল্যবিয়ের ঘটনা দেখা যায়। যারা মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে বিশেষ করে বয়স্কদের অনেকে মনে করেন, এতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কারণ তারা নিজেরাও ছোটবেলা থেকে এভাবে বিয়ে হতে দেখে অভ্যস্ত। এতে বোঝা যায়, বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে আমরা এখনও যথেষ্ট সচেতন হতে পারিনি।
হাসপাতালের তথ্য দেখলেও বিষয়টি বোঝা যায়। কাগজপত্রে বয়স ১৮ বছর দেখানো হলেও বাস্তবে বয়স ১৮ বছর না হওয়ার ঘটনা রয়েছে। সব ক্ষেত্রে এমন নয়। তবে ক্লিনিক বা তৃতীয় স্তরের সরকারি হাসপাতালে গেলে আমরা আসলে কতটা সচেতন হয়েছি, তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। (চলবে…)
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: সিলেট।