"সচেতনতার পাশাপাশি অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বাল্যবিয়ে রোধ করা কঠিন।"
Published : 24 Sep 2026, 07:30 AM
বাল্যবিয়ের ফলে একজন কিশোরী নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগতে পারে বলে মনে করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার শান্তা দাস। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, এই কিশোরী যখন গর্ভধারণ করে তখন তার স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
হ্যালো: আপনার দৃষ্টিতে বাল্যবিয়ে রোধে কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি?
শান্তা দাস: সচেতনতার পাশাপাশি অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বাল্যবিয়ে রোধ করা কঠিন। অনেক বাবা আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন। এটা বাস্তবতা। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বাল্যবিয়ের হার কমে আসতে পারে।
হ্যালো: বাল্যবিয়ে রোধে চিকিৎসকেরা কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?
শান্তা দাস: চিকিৎসকেরা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মশালা করতে পারেন। তবে এসব কর্মশালা শহরের মধ্যে করলে হবে না, পৌরসভা বা গ্রাম পর্যায়ে করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিক্ষার হার কম এবং দারিদ্র্যের হার বেশি, সেসব এলাকায় এ ধরনের কর্মশালা বেশি প্রয়োজন।
১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে, গর্ভধারণে কী কী জটিলতা তৈরি হতে পারে, সন্তান জন্ম দিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা দরকার।
যেমন, অল্প বয়সে বিয়ের পর কেউ দ্রুত গর্ভধারণ করলে মায়ের মৃত্যুঝুঁকি কতটা বাড়ে, শিশুমৃত্যুর হার কতটা বেশি, কম ওজন নিয়ে শিশু জন্মের হার কত, এসব তথ্য তুলে ধরলে মানুষকে সচেতন করা সহজ হবে। চিকিৎসকেরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মশালা করলে বাল্যবিয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: সিলেট।