ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ে বিশাল একটি খোলা মাঠ, যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল অনেকগুলো চিত্রা হরিণ।
Published : 28 Sep 2026, 02:45 PM
কোরবানি ঈদের পর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। মাত্র ৫০ টাকায় টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করতেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা পেতে শুরু করি।
ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ে বিশাল একটি খোলা মাঠ, যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল অনেকগুলো চিত্রা হরিণ। জীবনে এই প্রথম আমি জীবন্ত হরিণ কাছ থেকে দেখি। খাবার খেতে থাকা হরিণগুলোর শান্ত ভঙ্গি আমাকে বেশ মুগ্ধ করে।
সামনে এগোতেই দেখা মেলে সজারুর খাঁচার। সেখানে তিনটি সজারু ছিল।
এরপর একে একে চোখে পড়ে বাঘ, সিংহ, গণ্ডার, হায়েনা, উটপাখি, ভোঁদর ও সাদা ময়ূরসহ নানা জাতের প্রাণী।
সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে সাদা কাক এবং জিরাফ। বিশাল দেহ আর প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু লম্বা গলা নিয়ে জিরাফগুলো গাছের পাতা খাচ্ছিল। বারবার তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল তাদের দিকে।
সেখানেই দেখলাম আলোচিত অ্যালবিনো জাতের মহিষ, যার নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রাণীটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। অনেকেই কৌতূহল নিয়ে তার অবস্থান খুঁজছিল।
তবে এই আনন্দের মাঝেও কিছু দৃশ্য মনকে ভারাক্রান্ত করেছে। কিছু প্রাণীর বন্দি জীবন দেখে মনে হয়েছে, বনের মুক্ত পরিবেশ কি এই ছোট খাঁচার ভেতর পাওয়া সম্ভব। এই প্রশ্ন বারবার মনে এসেছে।
এছাড়াও কিছু দর্শনার্থী নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে হিংস্র প্রাণীর খুব কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেছে, যা দেখে আমি কিছুটা আতঙ্কিত হয়েছি।
দিন শেষে পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে তা টেরই পাইনি।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: গাজীপুর।