বাল্যবিয়ে মেয়েদের ওপর মানসিক চাপও তৈরি করে বলে জানান তিনি।
Published : 26 Sep 2026, 07:00 PM
কৈশোরে গর্ভধারণের ফলে মা ও সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্যজটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানান নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ইশাতির রাদিয়াত রানু।
পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই চিকিৎসক বলেন, সন্তান জন্মের পর স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিয়ে অনেক কিশোরী মা তার কাছে এসেছে। তাদের মধ্যে সন্তান লালন-পালন নিয়ে জ্ঞানের অনেক ঘাটতিও দেখেছেন তিনি।
এই চিকিৎসকের মতে, ১৫–১৬ বছর বা তার কম বয়সে মেয়েরা সাধারণত গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান ও প্রতিপালনের মত গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে না। এই বয়সে নিজের শারীরিক বিকাশের জন্য পুষ্টির প্রয়োজন থাকলেও গর্ভধারণের কারণে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে রক্তশূন্যতা, শরীর ও হাড়ে ব্যথা, কোমর ব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া বাল্যবিয়ে মেয়েদের ওপর মানসিক চাপও তৈরি করে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, “অল্প বয়সে মাতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়া মেয়েদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করে। বয়স কম হওয়ায় তারা নিজের বা সন্তানের শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে বা প্রকাশ করতে সমস্যায় পড়তে পারে।”
মায়ের পাশাপাশি শিশুর শারীরিক জটিলতার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি। বলেন “মায়ের পুষ্টির ঘাটতির প্রভাব শিশুর ওপরও পড়তে পারে। ফলে শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মানো বা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।”
এই চিকিৎসকের মতে, কম বয়সে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের প্রভাব শুধু গর্ভকাল বা জন্মের সময়েই সীমাবদ্ধ নয়। মা ও শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: ঢাকা।