পুরোনো কাগজগুলো হাতে নিতেই মনে হল আমি যেন আবার সেই ছোট্ট মেয়েটিতে ফিরে গেছি।
Published : 02 Sep 2026, 08:20 PM
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই কথা বলা যায়। স্ক্রিনে একে অপরকে দেখেও কথা বলা যায়। কিন্তু ছোটবেলায় যোগাযোগের এত আধুনিক মাধ্যমের কিছুই আমার জানা ছিল না।
যোগাযোগ মানেই ছিল স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া, একসঙ্গে টিফিন খাওয়া, বিকেলে খেলতে যাওয়া আর খেলার ফাঁকে গল্প করা। আর বন্ধুদের সঙ্গে কখনো ঝগড়া বা অভিমান হলে খাতার পাতা ছিঁড়ে তাতে ছোট ছোট বার্তা লিখে একে অপরকে দিতাম।
স্কুলে শিক্ষক যখন ক্লাসে কথা বলতে নিষেধ করতেন, তখন এই চিরকুটই ছিল আমাদের ভরসা। কথা বললে ক্লাস ক্যাপ্টেন বোর্ডে নাম লিখে নিত। তাই দুই-তিন বেঞ্চ দূরে বসা বন্ধুর সঙ্গেও খাতার পেছনের পাতা ছিঁড়ে মনের কথা লিখে গোপনে পাঠাতাম। কখনো শিক্ষকরা সেই চিরকুট ধরে ফেলতেন। পড়ে হেসে বলতেন, ‘এই কথাটা তো পরেও বলা যেত!’
চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুর সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছিল। একদিন তার সঙ্গে কথা না বলে থাকলাম। কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই আর অভিমান ধরে রাখতে পারলাম না। চিরকুটে বার্তা আদান-প্রদান করতে করতে একসময় আমাদের সব মান-অভিমান মিটে গেল। কথা না বলেও যেন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
আমার জীবনের প্রথম বন্ধু মুমু। ওরা নতুন বাড়িতে চলে যাওয়ার পর আমাদের দেখা হওয়া অনেক কমে গেল। তখন পুঁথি নামের আমাদের আরেক বন্ধুর মাধ্যমে আমরা একে অপরের খবর নিতাম। মুমু আমাকে যেসব ছোট ছোট কাগজে কথা লিখে দিত সেগুলো আমি যত্ন করে একটি বাক্সে জমিয়ে রাখতাম।
একদিন হঠাৎ সেই বাক্সটি খুললাম। পুরোনো কাগজগুলো হাতে নিতেই মনে হল আমি যেন আবার সেই ছোট্ট মেয়েটিতে ফিরে গেছি। চোখের সামনে ভেসে উঠল স্কুলের বেঞ্চ, বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি, ঝগড়া-অভিমান আর আবার মিলেমিশে যাওয়ার দিনগুলো। এত বছর পরও সেই ছোট ছোট কাগজের লেখাগুলো আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
যুগের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গেছে। আমাদের যোগাযোগের ধরনও বদলে গেছে। তবু পুরোনো সেই কাগজগুলো হাতে নিলে মনে হয়, আমার শৈশবের একটা অংশ এখনো এতে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: শেরপুর।