মৌরিসিও পচেত্তিনোর ২৮ সদস্যের স্কোয়াডে নতুন মুখ ১২ জন এবং ১৮ বা এর কম বয়সি খেলোয়াড় ছয় জন।
Published : 18 Sep 2026, 01:42 AM
বিশ্বকাপের পর প্রথম অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দল ঢেলে সাজিয়েছেন মৌরিসিও পচেত্তিনো। আসন্ন চারটি ম্যাচের জন্য এই আর্জেন্টাইন কোচের ঘোষিত ২৮ সদস্যের স্কোয়াডে নতুন মুখ মোট ১২ জন। ডাক পেয়েছেন ১৬ বছর বয়সি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার ক্যাভিন সলিভান।
সলিভান নামটি বাংলাদেশের ফুটবলে এখন অনেকটাই পরিচিত। মেজর লিগ সকারের দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলেন ক্যাভিন ও তার বড় ভাই ২২ বছর বয়সি কুইন সলিভান। তাদের অন্য দুই ভাই রোনান ও ডেক্লান সলিভান জাতীয় দলে খেলতে চান বাংলাদেশের হয়ে। গত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে নজর কাড়েন রোনান।
তাদের নানি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি সুলতানা আলম, যিনি মুক্তিযুদ্ধে রেখেছিলেন উল্লেখযোগ্য ভুমিকা।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলারদের একজন মনে করা হয় ক্যাভিন সলিভানকে। মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে সবচেয়ে দামী স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি ২০২৪ সালে। ১৪ বছর বয়সে মেজর লিগ সকারে মাঠে নেমে গড়েন রেকর্ড। আমেরিকা বা কানাডার কোনো প্রধান পেশাদার ক্রীড়া লিগে অভিষিক্ত সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি। বয়স ১৮ হলে তিনি যোগ দেবেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। গত বছর ফিলাডেলফিয়ার সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ে বড় অবদান ছিল এই মিডফিল্ডারের।
এই মৌসুমেও মেজর লিগ সকারে দলটির হয়ে দারুণ পারফর্ম করছেন তিনি। নিয়মিত মৌসুমের ২৩ ম্যাচে ছয়টি গোল করার পাশাপাশি গোলে সহায়তা করেছেন ১১টিতে।
এখন ক্যাভিনের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলার হাতছানি। তার ভাই কুইন সলিভান যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেন গত বছর। এবারের দলে তিনি নেই।
দলে ডাক পাওয়াদের মধ্যে ১৩ জনের এখনও জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। এই ১৩ জনের মধ্যে কেবল গোলরক্ষক দিয়েগো কোচেন এর আগে সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন।
এই দলে ১৮ বা এর কম বয়সি খেলোয়াড় আছেন ক্যাভিনসহ ছয় জন। ফলে দলটির গড় বয়স দাঁড়িয়েছে ২২ বছর ৯ মাস- যা বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গড় বয়সের চেয়ে চার বছরেরও বেশি কম।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে যুক্তরাষ্ট্র চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে যথাক্রমে পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে। ম্যাচগুলোর জন্য বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করে পচেত্তিনো বলেন, তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিতে পেরে তিনি খুব খুশি।
“সবার জন্য এটা নতুন শুরুর সূচনা। এই ম্যাচগুলোতে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দারুণ সম্ভাবনাময় কিছু তরুণ প্রতিভাকে দলে নিতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত।
“আমাদের দলের সংস্কৃতি, কাজের ধরন এবং অবশ্যই আমরা কীভাবে খেলতে চাই—সেই বিষয়গুলো বোঝা তাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সমর্থকরা যেমনটা প্রত্যাশা করে, ঠিক সেভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো দৃঢ় মানসিকতা ও নিবেদন তাদের দেখাতে হবে।”