গর্ভের সন্তান ‘কন্যা’ জানার পর বহু নারীর ওপর নেমে আসত অবর্ণনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
Published : 20 Aug 2026, 07:15 PM
কয়েক মাস আগে উচ্চ আদালত একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। এই রায়ের ফলে গর্ভবতী মায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ কিছুটা হলেও কমবে বলে আমি মনে করি।
আদালতের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ আইনি সংগ্রাম। প্রসূতি অবস্থায় শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটে তুলে ধরা হয় যে, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ জানার সুযোগ থাকায় কীভাবে পরিবারে কন্যাসন্তানের প্রতি বৈষম্য ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নিপীড়ন নেমে আসে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এবছর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজে অনাগত শিশুর লিঙ্গ জানার কুসংস্কারাচ্ছন্ন সংস্কৃতি চলে আসছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি, সমাজের একশ্রেণির মানুষের পুত্রসন্তানের প্রত্যাশা কীভাবে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়।
গর্ভের সন্তান ‘কন্যা’ জানার পর বহু নারীর ওপর নেমে আসত অবর্ণনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
এমনকি কন্যাসন্তান যাতে পৃথিবীতে আসতে না পারে, সে জন্য নারীকে অনিরাপদ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের মাধ্যমে ভয়ানক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হত।
চোখের সামনে নারীদের যে বঞ্চনা ও নির্যাতন ভোগ করতে দেখেছি, এই রায়ের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটবে বলে আমার বিশ্বাস। পাশাপাশি কন্যাসন্তানের জন্মের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে সমাজে লিঙ্গ সমতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: শেরপুর।