একসময় উত্তর না পাওয়ার কষ্টে চিঠি পাঠানোই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
Published : 02 Sep 2026, 07:50 PM
যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তাম তখন থেকেই কবিতার প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করতাম। অল্পস্বল্প গান ও কবিতা লেখার চেষ্টা করতাম।
লেখালেখির পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই পুরোনো জিনিসের প্রতি কৌতূহল ছিল আমার। এরপর নবম শ্রেণিতে উঠার পর চিঠি লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
কিন্তু ততদিনে প্রযুক্তির ভিড়ে চিঠির প্রচলন প্রায় বিলুপ্ত। সবাই বলত, এখন আর চিঠি পাঠানো হয় না। নিজের কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। তাই খালামণির ফোন পেলেই ইউটিউবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও দেখতাম।
ডাকঘরের নিয়মকানুন থেকে শুরু করে খামে ডাকটিকিট লাগিয়ে কীভাবে চিঠি পোস্ট করতে হয় সবই ভিডিও দেখে শিখেছিলাম।
দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ৭ জুলাই। আমার লেখা প্রথম চিঠিটি পোস্ট অফিসে জমা দেব বলে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর পোস্ট অফিসের উদ্দেশে রওনা হলাম। সেই চিঠিটি লিখেছিলাম গ্রামে থাকা আমার বন্ধু জাকিরকে।
পোস্ট অফিসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গেল। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর জানতে পারলাম, বিক্রির জন্য কোনো খাম নেই। শেষ পর্যন্ত বাইরে গিয়ে আধা ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করে একটি দোকান থেকে ১০ টাকায় দুইটি খাম কিনলাম। তারপর চিঠিটি জমা দেই। প্রক্রিয়া শেষ করার পর হাতে পেলাম দুটি রসিদ। সেদিন এক অন্যরকম আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম।
এরপর বন্ধু জাকির, ইমন ও আমার বাবার কাছেও একাধিক চিঠি পাঠাই। কিন্তু কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও কারও কাছ থেকে কোনো উত্তর এল না। একসময় উত্তর না পাওয়ার কষ্টে চিঠি পাঠানোই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হল। হাতে পেলাম নিজের একটি ফোন। একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠি বিষয়ক একটি গ্রুপের সন্ধান পাই। যেখানে আমার মত অনেক চিঠি প্রেমী মানুষ আছেন।
আমার মতে, চিঠির কাগজের গন্ধ, হাতে লেখা অক্ষর আর একটি উত্তরের জন্য অপেক্ষা করার অনুভূতির মত গভীর আবেগ আর কিছুতেই নেই।
আমি চাই, এই যান্ত্রিক যুগেও চিঠির এই পথচলা থেমে না যাক। মানুষের হাতে হাতে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে চিঠি পৌঁছানোর এই সুন্দর অভ্যাসটি চিরকাল বেঁচে থাকুক।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।