শুধু পড়াশোনার ক্ষতি হয় এমনটা নয়, দীর্ঘ সময় পানিবন্দি থাকলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে বলে জানান চিকিৎসক।
Published : 09 Sep 2026, 04:59 PM
তিস্তায় পানি বাড়লেই নীলফামারীর ডিমলার নদীপাড়ের শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, ব্যাহত হয় খেলাধুলাসহ স্বাভাবিক জীবন।
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলে নয় বছর বয়সী জাহিদ ইসলাম।
সে জানায়, পানি বাড়লে তাকে ঘরবন্দি সময় কাটাতে হয়।
১১ বছর বয়সী রব্বানী ইসলাম বলছিল, 'নদীর পানি আমাদের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। তখন আমরা কোথাও বের হতে পারি না। সব সময় ঘরের মধ্যে থাকতে হয়।'
এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন বলে জানান অভিভাবকরা।
রিপন শেখ নামের এক অভিভাবক হ্যালোকে বলেন, 'পানি বাড়লে সন্তানদের নিয়ে খুব চিন্তায় থাকতে হয়। তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। পানি কমে গেলেও রাস্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগে।'
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, 'তখন অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারে না। দীর্ঘ সময় ক্লাসের বাইরে থাকলে তাদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি খেলাধুলাসহ স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হয়।'
শুধু পড়াশোনার ক্ষতি হয় এমনটা নয়, দীর্ঘ সময় পানিবন্দি থাকলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে বলে জানান চিকিৎসক।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আতিকুর রহমান খান হ্যালোকে বলেন, 'এ সময়টাতে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও বাড়তে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'পানি বাড়লে সাপে কাটার ঘটনাও বেড়ে যায়। এছাড়াও নিরাপদ পানি ও পর্যাপ্ত খাবারের সংকট থাকলে শিশুরা অপুষ্টিতেও ভুগতে পারে।'
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি শিশু জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মত জলবায়ুজনিত দুর্যোগ তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বাধা তৈরি করছে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: নীলফামারী।