চিঠির সবচেয়ে ভালো লাগার দিক হল এতে মানুষের নিজের একটা ছোঁয়া থাকে।
Published : 03 Sep 2026, 05:34 PM
চিঠি নিয়ে আমার অনুভূতিটা একটু অন্যরকম। ছোটবেলায় চিঠি লেখা আমার সময়ের স্বাভাবিক কোনো বিষয় ছিল না। তখন মোবাইল ফোনেই খুব সহজে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত।
তারপরও চিঠি কীভাবে লেখা হয়, কীভাবে খামে ভরে ঠিকানা লিখতে হয়, ডাকযোগে কীভাবে সেটি প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছায় এসব জানার প্রতি আমার বেশ আগ্রহ ছিল।
সেই আগ্রহ থেকেই একবার আমি আমার দাদু ও নানুমনিকে চিঠি লিখেছিলাম। বাবার কাছ থেকে চিঠি লেখা ও পাঠানোর বিষয়গুলো জেনেছিলাম। একটি চিঠি লিখে সেটি খামে ভরে ঠিকানা লেখা, তারপর সেটি ডাকের মাধ্যমে পাঠানোর পুরো বিষয়টিই আমার কাছে এক ধরনের নতুন অভিজ্ঞতা ছিল।
ছোটবেলায় নতুন কিছু শেখার আনন্দটা হয়ত তখন পুরোপুরি বুঝিনি কিন্তু এখন ফিরে তাকালে সেই স্মৃতিটা বেশ ভালো লাগে।
চিঠির সবচেয়ে ভালো লাগার দিক হল এতে মানুষের নিজের একটা ছোঁয়া থাকে। ফোনে বা অনলাইনে আমরা খুব সহজেই কয়েকটি শব্দ লিখে পাঠিয়ে দিতে পারি। কিন্তু একটি চিঠি লিখতে বসলে একটু সময় নিয়ে ভাবতে হয়, নিজের কথাগুলো গুছিয়ে লিখতে হয়। তাই চিঠির প্রতিটি শব্দের সঙ্গে এক ধরনের ব্যক্তিগত অনুভূতি জড়িয়ে থাকে।
আজকের সময়ে চিঠি হয়ত আমাদের নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যম নয়। তবু চিঠির প্রতি মানুষের যে আলাদা একটা আবেগ, সেটি এখনও আছে। পুরোনো কোনো চিঠি হাতে নিলে শুধু লেখা কথাগুলো নয়, সেই সময়ের মানুষ, সম্পর্ক আর অনুভূতিগুলোকেও যেন নতুন করে মনে পড়ে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: সাতক্ষীরা।