এই সংলাপ থেকে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হল, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দেশের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শুধু সরকার বা বিশেষজ্ঞদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
Published : 01 Sep 2026, 07:24 PM
দেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ বিষয়ে কিছুদিন আগে আমার জেলায় একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পিপল-লেড এলটি-এলইডিএস: বাংলাদেশের লো কার্বন ফিউচার’ শিরোনামে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমারও।
এতে অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে অনেক নতুন বিষয় জানতে পেরেছি। বিশেষজ্ঞদের আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু ডেটা, গবেষণা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি।
এর আগে আমি মনে করতাম, কার্বন নিঃসরণ কমানো মূলত পরিবেশ রক্ষার একটি বিষয়। কিন্তু সংলাপে অংশ নিয়ে বুঝতে পেরেছি, এর সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ও জড়িত।
সংলাপের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল থিমভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্ক। অন্য তরুণদের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে কাজ করে জলবায়ু ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেছি। পাশাপাশি এসব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান ও বাস্তবসম্মত কিছু সুপারিশ নিয়েও আলোচনা করেছি।
এই কাজের মাধ্যমে অন্যদের মতামত শোনা এবং নিজের ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। দলগতভাবে কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার অভিজ্ঞতাটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
এই সংলাপ থেকে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হল, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দেশের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শুধু সরকার বা বিশেষজ্ঞদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তরুণ, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকেও এই কাজে যুক্ত হতে হবে।
সংলাপে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আরও জানতে এবং এই বিষয়ে সচেতন হতে আগ্রহী করেছে। ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগে আরও বেশি তরুণের অংশগ্রহণ হলে দেশের জলবায়ু ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাদের চিন্তা ও মতামত গুরুত্ব পাবে বলে আমি মনে করি।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: সিলেট।