মনীষা চলে যাওয়ার পর বুঝতে পারছি, ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আসলে কতটা মূল্যবান।
Published : 11 Sep 2026, 10:40 PM
কয়েকদিন আগেও যে বন্ধুর সঙ্গে হাসি-গল্পে মেতে থাকতাম, আজ সে আর আমাদের মাঝে নেই। আমার সেই সহপাঠী চন্দ্রিমা রাণী দাস, আমাদের দশম শ্রেণিতে রেখেই সে পৃথিবী থেকে চলে গেছে।
নবম শ্রেণির শুরুতে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমাদের কাছে সে পরিচিত ছিল মনীষা নামে। নতুন স্কুলে এসে তখন অনেক কিছুই আমার কাছে অপরিচিত ছিল। তখন মনীষা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। ধীরে ধীরে আমাদের পরিচয় থেকে সুন্দর একটি বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
স্কুলে কাটানো সময়ের পাশাপাশি বাড়ি ফেরার পথটাও ছিল আনন্দের। আমার আর মনীষার বাড়ি একই দিকে হওয়ায় আমরা প্রায়ই একসঙ্গে বাড়ি ফিরতাম। ফেরার পথে কখনো ঝালমুড়ি খেতাম, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করতাম, আবার কখনো হাসি-ঠাট্টায় মেতে থাকতাম। স্কুলে টিফিনের সময়ও একসঙ্গে বসে খাওয়া, গল্প করা আর হাসাহাসি করা ছিল আমাদের নিয়মিত অভ্যাস।
আমার জন্মদিনের একটি স্মৃতিও বিশেষভাবে মনে পড়ে। সেদিন মনীষা আমাকে একটি উপহার দিয়েছিল। উপহারটির চেয়ে তার দেওয়া আন্তরিকতাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আজ তার কথা মনে পড়লে সেই ছোট ছোট স্মৃতিগুলোও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
আমি কখনও ভাবিনি, সেই সাধারণ মুহূর্তগুলোকেই এত বেশি করে একদিন মনে পড়বে। মনীষা চলে যাওয়ার পর বুঝতে পারছি, ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আসলে কতটা মূল্যবান।
তার হঠাৎ চলে যাওয়া আমার জীবনে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। এখনো মনে হয়, সে হয়ত আগের মতই স্কুলে আসবে, কথা বলবে কিংবা বাড়ি ফেরার সময় বলবে, ‘চল, একসঙ্গে যাই।’ কিন্তু বাস্তবতা হল, সে আর ফিরে আসবে না।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: সাতক্ষীরা।