আমার জীবনে একাধিক বাল্যবিয়ে দেখার পর আমার মনে হয়েছে, আমাদের সমাজে এখনো বাল্যবিয়েকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না।
Published : 31 Oct 2026, 08:00 PM
চার বছর আগে আমার এক সহপাঠীর বিয়ে হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এই বয়সে বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।
তার বিয়ে হয় সৌদি আরব প্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে যার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। বিয়ের পর তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি, বিয়ের তিন বছরের মাথায় সে দুই সন্তানের মা হয়।
তার জীবনের এই পরিবর্তন আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে, বাল্যবিয়ে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। এটি শুধু তার পড়াশোনাই বন্ধ করেনি, তার স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। প্রথম সন্তানের জন্মের পর তার শরীরে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর সে ও তার সন্তান দুজনই পুষ্টিহীনতায় ভুগতে শুরু করে। এছাড়া একই সময়ে তার তার পরিবারেও নানা ঝামেলা তৈরি হতে থাকে।
তার ঘটনা থেকে আমি বুঝতে পেরেছি, বাল্যবিয়ে শুধু একটি শিশুর শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয় না, বরং তার সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার পথও বাধাগ্রস্ত করে।
আমার জীবনে একাধিক বাল্যবিয়ে দেখার পর আমার মনে হয়েছে, আমাদের সমাজে এখনো বাল্যবিয়েকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে একে সামাজিক অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হয় না।
এর পেছনে ধর্মীয় গোঁড়ামি, শিক্ষার অভাব ও অর্থনৈতিক সমস্যার মতো কারণ রয়েছে। পাশাপাশি, আইন প্রয়োগের দুর্বলতাও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আমি মনে করি, বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে তরুণ সমাজ, সুশীল সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিবার ও সমাজের সবাই সচেতন হলে এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে এই সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: গাজীপুর।