আমার দৃষ্টিতে কোনো শিশুর বিয়ে হওয়া উচিত নয়।
Published : 29 Sep 2026, 11:27 AM
বাল্যবিয়ে আমাদের দেশের একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। আইন ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অল্প বয়সে বিয়ের ঘটনা ঘটছে।
আমার দৃষ্টিতে কোনো শিশুর বিয়ে হওয়া উচিত নয়। কারণ এর ফলে একজন শিশুর শিক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
আমার মতে, বিয়ের জন্য ছেলে-মেয়ে উভয়ের মানসিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাল্যবিয়ে সেই সুযোগটি কেড়ে নেয়।
মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার চাপও তাদের কৈশোরকে বাধাগ্রস্ত করে।
এছাড়া বাল্যবিয়ের নেতিবাচক প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবার ও সমাজের ওপরও এটি প্রভাব ফেলে। শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া, অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়া, পারিবারিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার মত সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
আমি মনে করি, বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে শুধু আইনই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। অভিভাবকদের বুঝতে হবে, সন্তানের দ্রুত বিয়ে দেওয়ার চেয়ে তাকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কোথাও বাল্যবিয়ের আয়োজন হলে তা গোপন না রেখে শিক্ষক, অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানানো উচিত। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা, বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রচার এবং সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: শেরপুর।