আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এই বিনোদন যেন আসক্তি না হয়ে যায়।
Published : 03 Sep 2022, 06:16 PM
অনলাইনে নানা ধরনের গেইম খেলা যায়। মূলত বিনোদনের জন্যই এগুলো তৈরি হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু গেইমে রয়েছে কেবলই সহিংসতা।
প্রতিপক্ষকে আঘাত করা, গুলি করা ও রক্তপাত নিয়ে তৈরি এগুলো। এই খেলাগুলোর জন্য বয়সেরও কোনো বাছাই প্রক্রিয়া নেই। যে কোনো বয়সী, যে কেউ চাইলেই খেলতে পারে।
আগে মনে করা হতো, শুধু শহরের ছেলে-মেয়েরা গেইমস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এই ধারণাটি এখন সত্য নয়। গ্রামাঞ্চলেও এখন উল্লেখযোগ্য হারে চোখে পড়ে শিশুকিশোররা জটলা পাকিয়ে নানা গেইম খেলছে। মাঠে খেলাধুলার প্রতি আকর্ষণ যেন দিন দিন শুধু কমেই যাচ্ছে।
কিছুদিন আগে সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারি, চুয়াডাঙ্গায় ‘নিষিদ্ধ’ পাবজি গেমস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন জেলার ১২০ জন কিশোর ও যুবককে আটক করে পুলিশ। একটি গেইম যে নেশার পর্যায়ে চলে গেছে তা এখান থেকেই বোঝা যায়।
আমি মনে করি, যারা এই ধরনের গেইমগুলোতে আসক্ত, তাদের মেজাজ অনেক বেশি খিটখিটে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই টাকার জন্য মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকে। তাছাড়া পড়াশোনায় মনযোগের যে ব্যাঘাত ঘটে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাত জেগে জেগে গেইম খেলে সকালে ক্লাস যাওয়া হয় না কিংবা পাঠদান মনযোগ আসে না।
আসলে শিশুদের জন্য বিনোদনের ক্ষেত্র দেশে খুবই কম। মাঠের সংখ্যাও কমে আসছে। শিশুরা অনেকটা বাধ্য হয়েই ঝুঁকে যাচ্ছে ইন্টারনেটিভিত্তিক এসব গেইমে।
অভিভাবকরা এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সন্তানদের নজরদারির পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শিশুকিশোরদের বোঝাতে হবে কোনটা নির্মল বিনোদন এবং কোনটা ক্ষতিকারক। এই ধরনের গেইম মানসিক স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষতি করতে পারে। আমরা তা মাঝেমধ্যে খবরেই দেখতে পাই।
তবে ভালো গেইমসও তো রয়েছে। যেগুলো অনেক শিক্ষণীয়। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এই বিনোদন যেন আসক্তি না হয়ে যায়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: শেরপুর।