এই পাঁচ বছরে কত স্মৃতি জমেছে, কত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি! সবকিছুই আমার কাছে ভীষণ মূল্যবান হয়ে থাকবে।
Published : 28 Oct 2026, 11:03 PM
শিশু সাংবাদিক হিসেবে পথচলার শেষ দিন চলে এসেছে। বৃহস্পতিবার আমি ১৮ তে পা দেব। অথচ জন্মদিনের মত আনন্দের দিনেই বিদায় নিতে হবে প্রিয় হ্যালো থেকে। যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেটেছে আমার জীবনের পাঁচটি বছর।
শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইট হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু হয় ২০২২ সালে। শিশু সাংবাদিকতা সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। তবে তখন ভাবিনি, একদিন শিশু সাংবাদিক পরিচয়টাই আমার জীবনের এত বড় অংশ হয়ে উঠবে।
শিশু সাংবাদিকতায় আমার প্রথম প্রশিক্ষক ছিলেন রাকিব ভাইয়া। তিনি আমাদের মাঝে এখন আর নেই, পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। তাকে আমি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
এরপর অফিসের অন্য আপু-ভাইয়ারাও আমাকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। তাদের কাছে শুধু কাজই শিখিনি, পেয়েছি বন্ধুর মত সঙ্গ ও সহযোগিতা। তাদের ভালোবাসা আমার এই পথচলাকে আরও সুন্দর করেছে।
হ্যালোতে প্রথম কর্মশালায় যাওয়ার স্মৃতি আমার খুব মনে পড়ে। সেদিন আম্মুকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। শুরুতে সাংবাদিকতা নিয়ে আম্মুর খুব একটা আগ্রহ ছিল না। কিন্তু কর্মশালার পর থেকে আম্মুই আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতে শুরু করেন।
স্কুল, বইমেলা কিংবা বিভিন্ন জায়গায় আম্মুকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির চেষ্টা করতাম। কাজ করতে করতেই সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। স্কুল নিয়ে প্রতিবেদন করার পর থেকে অনেকেই আমাকে সাংবাদিক মাঈশা নামে চেনে। পরিচয়টি আমার বেশ ভালো লাগে।
হ্যালো আমাকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছে। নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হ্যালো আমাকে আমার নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এখানে এসে আমি বুঝতে পেরেছি, আমি কী করতে ভালোবাসি এবং কোন কাজগুলো আমাকে আনন্দ দেয়।
হ্যালোর কাছে আমি কত কিছু শিখেছি, তা এক লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই পাঁচ বছরে কত স্মৃতি জমেছে, কত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি! সবকিছুই আমার কাছে ভীষণ মূল্যবান হয়ে থাকবে।
হ্যালো আমার জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে একসময় এটি প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ হয়ে উঠেছিল। প্রায় প্রতিদিন খবরের ভয়েসওভার দেওয়া, সময়মতো কাজ শেষ করতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তা করা, কাজের ফাঁকে নতুন কিছু শেখা, সবকিছুই খুব মনে পড়বে।
বিদায়ের মুহূর্তে পেছনের দিনগুলোর কথা মনে করে মন খারাপ হচ্ছে। তবে এই পথচলা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস আর পরিচয় আমার সঙ্গে থেকে যাবে।
ভালো থেকো, প্রিয় হ্যালো। তোমার কাছে আমার শেখার, বেড়ে ওঠার আর ভালোবাসা পাওয়ার গল্পগুলো সবসময় যত্নে রাখা থাকবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: খুলনা।