শেষ ক্লাসের দিন আমাদের অনেকের চোখেই পানি চলে এসেছিল।
Published : 21 Oct 2026, 02:20 PM
দেখতে দেখতে চলে এল ১৫ অক্টোবর। গ্রিন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে সেদিনই ছিল আমাদের শেষ ক্লাস। ভাবতেই অবাক লাগছিল এই চেনা পরিবেশে আর আগের মত নিয়মিত আসা হবে না।
২০২০ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল পড়াশোনায় ভালো শিক্ষার্থীদের এই স্কুলে হয়ত আমার বন্ধু হবে না। কিন্তু বন্ধু হওয়ার আগেই করোনাভাইরাস মহামারিতে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল। ২০২২ সালে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শুরু হলে ধীরে ধীরে সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
বন্ধুদের ভালোবাসা আর শিক্ষকদের স্নেহে কখন যে স্কুলজীবনের এতগুলো বছর কেটে গেল বুঝতেই পারিনি। অনেক দিন নানা কারণে মন খারাপ থাকত। কিন্তু স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বললে, শিক্ষকদের ক্লাস করলে মন ভালো হয়ে যেত। শিক্ষকদের বকুনির মধ্যেও যেন লুকিয়ে থাকত ভালোবাসা।
ক্লাসের ফাঁকে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বের হওয়া, টিফিন ভাগ করে খাওয়া, মাঠে সবার সঙ্গে খেলাধুলা করা কিংবা স্কুলে একটু দেরি করে পৌঁছালে প্রিয় বান্ধবীর আমার জন্য পাশের আসনটি রেখে দেওয়া, এসব ছিল আমাদের প্রতিদিনের পরিচিত ঘটনা।
সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে প্রিয় লিখন স্যারের কথা। টিফিনের পর মাঠ থেকে লাঠি হাতে নিয়ে দৌড়ে এসে সবাইকে শ্রেণিকক্ষে পাঠানোর দৃশ্যটি ছিল আমাদের স্কুলজীবনের মজার একটি অংশ।
শেষ ক্লাসের দিন আমাদের অনেকের চোখেই পানি চলে এসেছিল। একে অপরকে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে লিখে দিচ্ছিলাম শুভকামনা। গল্প করছিলাম একসঙ্গে কাটানো আনন্দের মুহূর্তগুলো নিয়ে। হাসি আর কান্নায় ভরে উঠেছিল দিনটি।
স্কুলজীবন শেষ হওয়া মানে শুধু ক্লাস শেষ হওয়া নয়। আর আগের মতো সকাল আটটার মধ্যে স্কুলে পৌঁছানোর তাড়া থাকবে না। প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে না, একসঙ্গে বসে শিক্ষকদের ক্লাসও করা হবে না। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই হয়ত একদিন সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।
বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে আমার একটাই চাওয়া, তারা যেন আমাকে ভুলে না যায়। তারা যেমন আমার মনে চিরকাল থেকে যাবেন, আমিও যেন তাদের স্মৃতিতে একটু জায়গা করে নিতে পারি।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।