অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল দেওয়ার পর হঠাৎ মনে হল, স্কুলজীবনটা কত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
Published : 22 Sep 2026, 03:40 PM
নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথমবার বেরাইদ মুসলিম হাই স্কুলের আঙিনায় পা রেখেছিলাম। হাতে পেয়েছিলাম নতুন বই। শুরু হয়েছিল জীবনের নতুন একটি অধ্যায়। স্মৃতির পাতায় আজও স্পষ্ট হয়ে আছে সেই দিনটির কথা।
তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলের সবাই ছিল আমার কাছে অপরিচিত। কাছের কোনো বন্ধুও ছিল না। তাই কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতাম না। নিজের মত করে স্কুলে আসতাম, ক্লাস করতাম আবার একাই বাড়ি ফিরে যেতাম।
দিন শেষে মনটা খারাপ হয়ে যেত। মনে হত, এত বড় স্কুলে যেন আমি একাই। তখন বুঝতে পারিনি, এই অপরিচিত মানুষগুলোর মধ্য থেকেই একদিন আমি সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের খুঁজে পাব।
সপ্তম শ্রেণিতে উঠে কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর স্কুলে যাওয়াটা আরও আনন্দের হয়ে ওঠে। একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, একে অপরকে কাজে সাহায্য করা, হাসি, আড্ডা আর দুষ্টুমিতে দিনগুলো কেটে যেতে থাকে।
অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল দেওয়ার পর হঠাৎ মনে হল, স্কুলজীবনটা কত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন থেকেই স্কুলের প্রতিটি দিন নতুন করে উপভোগ করতে শুরু করি।
নবম শ্রেণিতে এসে স্কুলজীবনের আনন্দটা যেন আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, দুষ্টুমি কিংবা শিক্ষকদের বকুনি সবকিছুই তখন খুব আপন মনে হতে শুরু করে।
এখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। আর কয়েক মাস পরই শেষ হবে স্কুলজীবন। ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগে। যে স্কুলে একসময় আমার কোনো বন্ধুই ছিল না, সেই স্কুলই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি।
হয়ত একদিন আর প্রতিদিন এই স্কুলের ফটক দিয়ে ঢোকা হবে না। বন্ধুদের সঙ্গে আগের মত দেখা হবে না। তবু এই স্কুলের প্রতিটি স্মৃতি আমার সঙ্গে থেকে যাবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: ঢাকা।