রাকিবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানতে পারি, কয়েক বছর আগে নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিল সে।
Published : 11 Oct 2026, 03:50 PM
কয়েকদিন আগের কথা। সেদিন ভোরে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে যাওয়া হয় আমার।
তখনও ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। একটি বেঞ্চে এক শিশুকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখি। বয়স আনুমানিক নয় বা দশ বছর। পাশে রাখা একটি ব্যাগে কয়েকটি পানির বোতল।
কিছুক্ষণ পর শিশুটির ঘুম ভাঙে। কথা বলে জানতে পারলাম, তার নাম রাকিব। দিনভর ট্রেনের ভিড়ে পানির বোতল বিক্রি করে সে।
কখনো যাত্রীদের ব্যাগ টেনে দেয়, আবার কখনো ছোটখাটো কাজ করে। এসব কাজ করে যে টাকা পায়, তা দিয়েই খাবারের ব্যবস্থা করে।
রাকিবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানতে পারি, কয়েক বছর আগে নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিল সে। কিন্তু এই শহরে এসে বাবা-মাকেও হারিয়েছে। এখন আপন বলতে তার কেউ নেই। ঢাকায় নেই কোনো ঘরবাড়িও। কমলাপুর রেলস্টেশনই এখন তার আশ্রয়স্থল।
কথা বলার একপর্যায়ে রাকিব বলে, আমি স্কুলে যেতে চাই। অন্যদের মত আমারও খেলাধুলা করতে ইচ্ছে করে। তার কথাগুলো শুনে আমার মনে হল, এই শিশুটির চাওয়াগুলো তো খুব সাধারণ।
স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, ঈদের সময় নতুন পোশাক পরা এসবই তো একটি শিশুর স্বাভাবিক শৈশবের অংশ। অথচ রাকিবের কাছে এগুলো যেন অনেক দূরের স্বপ্ন।
স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, রাকিব একা নয়। কমলাপুরেও তার মত আরও অনেক শিশু আছে। কারও কাছে স্টেশন শুধু ট্রেনে ওঠানামার জায়গা কিন্তু এসব শিশুর কাছে এটিই ঘর। রাত হলে প্ল্যাটফর্মই হয়ে ওঠে তাদের আশ্রয়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।