আমার পরিচিত কয়েকজন মেয়েও স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে হয়রানির শিকার হয়েছে।
Published : 26 Sep 2026, 06:20 PM
আমার বয়সী অনেক মেয়েই প্রতিদিন স্কুলে যায়। কারও স্কুলে যেতে এক মিনিট, কারও ১৫ মিনিট, আবার কারও আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কিন্তু অল্প সময়ের এই পথটি কি সবার জন্য নিরাপদ হয়ে উঠতে পেরেছে?
শুধু যানবাহন নয়, রাস্তায় বখাটের উৎপাতের কারণেও অনেক মেয়ে স্কুলে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। অনেকেই নানাভাবে হয়রানিরও শিকার হয়। কেউ প্রতিবাদ করে, আবার কেউ ভয় বা সংকোচের কারণে চুপ থাকে।
তাদের কেউ কেউ মনে করে, প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পরিবারকে জানালে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, এমন আশঙ্কাও থাকে।
আমার পরিচিত কয়েকজন মেয়েও স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে হয়রানির শিকার হয়েছে। রাস্তায় যাওয়ার সময় তাদের উদ্দেশে করে নানা ধরনের মন্তব্য বা গান গাওয়া হয়। কিন্তু ভয় ও সংকোচের কারণে তারা প্রতিবাদ করতে পারেনি।
আমার পরিচিত আরেক ছাত্রীর কথা বলি। তার বাসা থেকে স্কুলে যেতে সময় লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট। তবুও এই সময়টুকু সে নিরাপদ বোধ করে না। বাসা থেকে বের হওয়ার পর কিছুটা পথ তার নিরাপদ মনে হয়। কিন্তু এরপরের একটি নির্জন জায়গা নিয়ে তার মধ্যে ভয় কাজ করে। এই জায়গায় একবার কয়েকজন ছেলে তাকে উত্যক্ত করেছিল।
বিষয়টি বেশি দূর না এগোলেও এমন অভিজ্ঞতার কারণে কখনো কখনো স্কুলে আসার পথে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় হয় তার।
তবে প্রশ্ন হল চুপ থাকলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?
আমাদের বিদ্যালয়ে চার শতাধিক মেয়ে শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে প্রায় একশ জন সাইকেলে করে স্কুলে আসে। প্রতিদিন তারা যে পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসে, সেই পথ নিরাপদ রাখা শুধু তাদের পরিবারের দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।
একজন শিশুর স্কুলে যাওয়ার পথ যেন তার শিক্ষাজীবনের বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তাই পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
কোনো শিশু সমস্যার কথা জানালে তাকে দোষারোপ না করে তার কথা শুনতে হবে এবং পাশে দাঁড়াতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: কুড়িগ্রাম।