'আমার মত অনেক শিশুর স্বপ্ন ও লেখালেখির পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে তৌফিক ইমরোজ খালিদী নামটি।'
Published : 03 Oct 2026, 01:54 PM
হ্যালোর সঙ্গে আমার পথচলা শুরু ২০২০ সালের জুনে। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই সময় থেকে হ্যালো আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে আছে।
লেখালেখির পাশাপাশি নানা গুণ গড়ে তুলতে হ্যালোর ভূমিকা আমার কাছে অনেক। আর সেই হ্যালোর স্বপ্নদ্রষ্টা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
কিছু মানুষ শুধু কাজের জন্যই মানুষের মনে জায়গা করে নেন না, তাদের ভালো ব্যবহার আর আন্তরিকতাও মানুষকে কাছে টানে। আমার কাছে তৌফিক ভাই ছিলেন তেমনই একজন।
২০২১ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তৌফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। তখন আমি ১১ বছর বয়সী, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বেশ অবাক হয়ে বলেছিলেন, 'হ্যালোতে কাজ চালিয়ে যাও। তোমাদের মত তরুণ আমাদের দরকার।' বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধানের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার জন্য অনেক অনুপ্রেরণার ছিল।
সেদিন আমি তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছিলাম। একপর্যায়ে তিনি আমাকে ‘ভাই’ বলে ডাকতে বলেন। বিষয়টি আমাকে বেশ অবাক করেছিল। এত বড় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রধান হয়েও তিনি এত সহজভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তৌফিক ভাইয়ের সঙ্গে শেষবার দেখা হয়। সেদিন নিজের হাতে আঁকা বিডিনিউজের জন্য একটি শুভেচ্ছাবার্তা তাকে উপহার দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। উপহারটি পেয়ে তিনি খুব খুশি হন।
অনেকক্ষণ সেটি দেখার পর অফিসে বলে দেন, এটি যেন ফ্রেম করে রাখা হয়। আমার ছোট্ট একটি উপহার তিনি এতটা পছন্দ করেছেন, বিষয়টি তখন আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না।
মানুষ পৃথিবীতে স্থায়ী নয়। তবে কিছু মানুষের কাজ ও ভালো ব্যবহার তাদের অন্যদের মনে বাঁচিয়ে রাখে। তৌফিক ভাইয়ের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।
তার উদ্যোগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর হ্যালো গড়ে তুলেছে। এই প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য শিশু সাংবাদিকতার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, লেখালেখিতে তাদের হাতেখড়ি হচ্ছে, নিজের অধিকার নিয়ে মূল ধারার গণমাধ্যমে কথা বলতে পারছে।
আমার মত অনেক শিশুর স্বপ্ন ও লেখালেখির পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে তৌফিক ইমরোজ খালিদী নামটি। তাই তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য শুধু একজন সাংবাদিককে হারানো নয়, একজন আপন মানুষকে হারানোও বটে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।