দেশ এগিয়েছে, উন্নয়নও হচ্ছে। কিন্তু আমরা মানে নারীরা নানা বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাইনি।
Published : 26 Jun 2021, 09:13 PM
নারী হয়রানি নারীর মুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে আমার মনে হয়। রাস্তা-ঘাটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যানবাহনে কিংবা কর্মক্ষেত্রে এই হয়রানি চলছেই। এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি, আলোচনা, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে কী?
আমাদের অভিভাবকেরা নিরাপত্তার অভাবে মেয়ে শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতেই ভয় পান। অনেকে তো ভয়ে মেয়েকে শিশু বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন।
এখন মেয়েরা প্রতিবাদী হয়েছে, নিজেদেরকে যোগ্য ও সক্ষম করে গড়ে তুলছে- এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই প্রতিবাদ করতে গিয়েই হেনস্তার শিকার হন নারীরা। প্রতিবেশি, সমাজ, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কেউই তখন মেয়েটাকে সমর্থন দেয় না। নানাভাবে দোষটা মেয়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় মেয়ে মানুষের এত কথা বলা উচিত না।
আমি মনে করি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অবশ্যই মেয়েটার পাশে দাঁড়ানো উচিত। একটা সাধারণ মেয়ে যখন অভিযোগ আনেন, তখন বেশ সাহস নিয়েই তাকে সামনে আসতে হয়।
আমরা দেখেছি ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের ঘটনা। থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে ভিডিও করেন এবং নানাভাবে হেনস্তা করেন। এই যদি হয় প্রশাসনের অবস্থা তাহলে মেয়েরা সাহস করে মুখ খুলবে?
হয়রানির জন্য মেয়েকে দায়ী না করে বরং মানবিক সর্মথন দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের বিকল্প নেই। এ সময় কাছের মানুষকে বেশ শক্তভাবে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
আমি মনে করি ছেলে সন্তানের অভিভাবকদের দায়িত্ব আরও বেশি। ছেলে সন্তানকে অবশ্যই আগে থেকে শেখাতে হবে নারীর প্রতি আচরণ কেমন হওয়া উচিত। আর মেয়ে সন্তানের অভিভাবকের উচিত মেয়েকে সাহসী ও প্রতিবাদী করে বড় করা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক শিক্ষার্থীই বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখে শিক্ষকের সাথে। তাছাড়া সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষকরা অন্যতম। তাদের কথার মূল্য সমাজে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। সুতরাং শিক্ষকরাও এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।