শিশু সাংবাদিক হিসবে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিশুরা বড় হয়ে কী হতে চায় তাও বেশিরভাগ থেকে পরিবার শিশুর ওপর চাপিয়ে দেয়।
Published : 21 Oct 2026, 05:31 PM
অনেক পরিবারে শিশুদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শিশুরা কোন কাপড় পড়বে, কোন বিদ্যালয়ে পড়বে, কিভাবে সময় কাটাবে কিংবা ভবিষ্যতে কী হতে চায় এমন অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা হয়।
শিশু সাংবাদিক হিসবে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিশুরা বড় হয়ে কী হতে চায় তাও বেশিরভাগ থেকে পরিবার শিশুর ওপর চাপিয়ে দেয়। শিশুর আগ্রহ বা ইচ্ছের কোনো মূল্য থাকে না এতে।
অনেক সময় বড়রা মনে করে শিশু ছোট জন্য তারা সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। কিন্তু আমি মনে করি, শিশুদের বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যে কোনো শিশুর নিজস্ব চিন্তা, পছন্দ, স্বপ্ন ও অনুভূতি রয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্তে তার মতামত নেওয়া হলে সে নিজেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য হিসেবে ভাবতে শেখে। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিজের কথা প্রকাশ করার সক্ষমতা তৈরি হয়।
বিশেষ করে শিক্ষা, ভবিষ্যত পেশা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে শিশুদের মতামত শোনা অত্যন্ত জরুরি। কোনো সিদ্ধান্ত শিশুর জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেললে তার কথা না শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
তবে শিশুদের প্রতিটি মতামত মেনে নেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। বরং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ সহজভাবে বুঝিয়ে বলা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্ৰাধিকার দিতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি, শিশুদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্ৰহণের প্রক্রিয়ায়ও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নাগরিক। পরিবার থেকেই যদি তাদের মতামতের মূল্য দেওয়া হয়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: নীলফামারী।