আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন, শিশুকে সঠিক পথে রাখতে শারীরিক শাস্তি প্রয়োজন।
Published : 17 Oct 2026, 01:00 PM
শিশুকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝানো এবং ভুল থেকে শেখানোর জন্য শাসন করা যেতে পারে। কিন্তু শাসনের নামে যখন শিশুকে মারধর, অপমান কিংবা ভয় দেখানো হয় তখন তা আর শাসন থাকে না, নির্যাতনে পরিণত হয়।
আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন, শিশুকে সঠিক পথে রাখতে শারীরিক শাস্তি প্রয়োজন। কিন্তু আমার মনে হয়, ভয় দেখিয়ে শিশুকে সাময়িকভাবে বাধ্য করা গেলেও তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নৈতিক বোধ গড়ে তোলা যায় না। বরং সে ভয়ে নিজের ভুল লুকাতে পারে কিংবা সমস্যা নিয়ে বড়দের সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করতে পারে।
শিশু ভুল করলে তাকে অপমান না করে ভুলের কারণ বোঝানো উচিত। তার বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধৈর্যের সঙ্গে কথা বলতে হবে। প্রয়োজনে বয়স উপযোগী নিয়মের মাধ্যমে তাকে নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে শেখানো যায়। তবে কোনো অবস্থাতেই শাসনের নামে তার মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
শিশুরা বড়দের আচরণ দেখেও শেখে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচর্যাকারীদের নিজেদের আচরণে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চা করা জরুরি। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের অধিকার এবং ইতিবাচক শাসন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আমার মতে, শাসনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিশুকে ভয় দেখানো নয়, বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করা। যে আচরণ শিশুকে অপমানিত করে তার শরীর বা মনে আঘাত করে কিংবা নিরাপত্তাহীন করে তোলে তা কোনোভাবেই শাসনের অজুহাতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: নীলফামারী।