বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আকাশে ঝলমলে রোদ ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পরপরই শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি।
Published : 24 Oct 2026, 09:30 PM
সেদিন ছুটির দিনে আমরা সবাই বাড়িতে ছিলাম। যে যার মত সময় কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ মুঠোফোনে দেখতে পেলাম, আমাদের উপজেলায় একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
অনেকদিন ধরেই পড়াশোনা আর আব্বু-আম্মুর ব্যস্ততার কারণে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হচ্ছিল না। তাই খবরটি দেখে আব্বুকে সেখানে যাওয়ার জন্য বায়না ধরলাম। আব্বুও রাজি হয়ে গেলেন। এরপর আমি, আব্বু ও আম্মু মিলে রওনা দিলাম।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আকাশে ঝলমলে রোদ ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পরপরই শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি। বাধ্য হয়ে কিছুক্ষণ সামনের একটি দোকানে বসে থাকতে হল। বৃষ্টি থেমে আবার সূর্যের আলো দেখা দেওয়ার পর আমরা রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশ করলাম।
ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ল চারদিকে সবুজের সমারোহ। নানা ধরনের ফুল ও গাছপালায় সাজানো পরিবেশটি দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল। ছোটদের বিনোদনের জন্য ছিল বিভিন্ন আয়োজন, সুইমিংপুল, দোলনা ও ক্যাফে।
পাশাপাশি ছিল বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থাও। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর মনোরম পরিবেশ দেখে আমাদের সবার মন ভালো হয়ে গেল।
আমাদের ছোট শহরে এমন সুন্দর একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠায় বেশ ভালো লেগেছিল। সাধারণত এ ধরনের আয়োজন বড় শহরে দেখার সুযোগ বেশি হয়। তাই বাড়ির কাছেই এমন একটি জায়গা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল আমার জন্য নতুন ও আনন্দের।
পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে। ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন হয়ত সবাই মিলে সময় কাটানো সম্ভব হয় না। কিন্তু সুযোগ পেলে একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, গল্প করা কিংবা নতুন কিছু দেখা আমাদের মনে আনন্দ জোগায়। সেদিনের বৃষ্টি, সবুজ পরিবেশ আর আব্বু-আম্মুর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
আমার মনে হয়, আনন্দের জন্য সব সময় দূরে কোথাও যেতে হয় না। কাছাকাছি কোনো সুন্দর জায়গায় পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটালেও তা হয়ে উঠতে পারে জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: কুড়িগ্রাম।