“সেদিন কথাগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও, এখন পদে পদে তার সেই কথার গুরুত্ব বুঝতে পারছি।”
Published : 04 Oct 2026, 01:12 AM
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের শিশু সাংবাদিকদের অনেকেই এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করছেন। তারা বলছেন, শিশুদের সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ তৈরি করে তাদের মত অনেককে সংবাদমাধ্যমে আসার পথ করে দিয়েছেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সদ্যপ্রয়াত প্রধান সম্পাদককে নিয়ে নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন হ্যালোর সাবেক শিশু সাংবাদিকরা।
বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল স্টার নিউজের স্টাফ করেসপনডেন্ট নিবির সাহা প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “হ্যালোতে কাজ শুরুর সময় শুধু একটা নামই শুনতাম, ‘তৌফিক ভাই, তৌফিক ভাই’। যেদিন প্রথম দেখা করতে যাই, ভয়ে পা কাঁপছিল।”
তবে কথা বলার পর সেই ভয় আর থাকেনি। নিবির বলেন, “কথা বলার পর সেই ভয় ও জড়তা কেটে গিয়ে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এসেছিল। অদ্ভুত আপনত্ব অনুভব করেছি।”
তিন বছর আগের একটি সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন সময় টিভির রিপোর্টার দ্বীন মোহাম্মাদ সাব্বির।
সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে কাজ শুরু করেছে শুনে তাকে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেছিলেন, তোমার তো বড্ড সাহস! এ দেশে সাংবাদিক হতে চাওয়াটাই খুব সাহসের ব্যাপার।
সাব্বির বলেন, “সেদিন কথাগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও, এখন পদে পদে তার সেই কথার গুরুত্ব বুঝতে পারছি।”
শিশু সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমের সহ-সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “কৈশোরেই আমাদের মূলধারার সাংবাদিকতায় আসার সুযোগ করে দেওয়া মানুষটি হলেন খালিদী ভাই। আমি তার আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করি। তবে তার এই প্রস্থান হয়ত আর পূরণ হবে না।”
হ্যালোতে সাংবাদিকতা শেখার দিনগুলোর কথা মনে রেখেছেন ২০১৪ সালে ঠাকুরগাঁও থেকে কাজ শুরু করা আমিনুর রহমান হৃদয়। পরবর্তীতে তিনি হ্যালোর কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র সোশ্যাল মিডিয়া মডারেটর হিসেবে কর্মরত।
হৃদয় বলেন, “হ্যালো ছিল আমাদের সাংবাদিকতা শেখার পাঠশালা, আর তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন সেই পাঠশালার প্রধান শিক্ষক।”
তার মতে, “এই প্ল্যাটফর্মটি অসংখ্য শিশুর চোখে পৃথিবীকে নতুন করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দিচ্ছে।”
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিভিন্ন লেখার পাশাপাশি কথাগুলোও নাসির উদ্দিনের জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। হ্যালোর সাবেক এই শিশু সাংবাদিক এখন ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি সানের স্টাফ রিপোর্টার।
নাসির বলেন, “তিনি আমার প্রিয় সম্পাদকদের একজন। সাংবাদিকতা জীবনে আমি তার আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করি। হুট করে তার চলে যাওয়ার খবরটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে কাজের একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা জানান তনুশ্রী বিশ্বাস। হ্যালোর সাবেক এই শিশু সাংবাদিক এখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ব ডেস্কে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
তনুশ্রী জানান, চার-পাঁচ মাস আগে ডেস্ক মিটিংয়ের ফাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদের কাজ তাকে হাতে-কলমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
তিনি বলেন, “এখন হ্যালোতে না থাকলেও তৌফিক ভাই আমাকে হ্যালোর শিশু সাংবাদিকের মতোই স্নেহ করতেন। এমন একজন মানুষকে এভাবে হারিয়ে ফেলব ভাবিনি।”
তবে সবার স্মৃতিতে সরাসরি দেখা হওয়ার গল্প নেই। নওগাঁ থেকে প্রকাশিত দৈনিক বরেন্দ্র কণ্ঠের সংবাদকর্মী মো. আবু সাইদ কখনো তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ পাননি।
হ্যালোর সাবেক এই শিশু সাংবাদিক বলেন, “ঢাকায় গিয়ে একদিন তার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল। তবে সেই সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। তার স্মৃতি থেকে যাবে দেখা না হওয়ার এক অপূর্ণ ইচ্ছার মধ্যেই।”
প্রতিবেদক: আয়াত ইসলাম আসফি (১৬), জান্নাতুল মাওয়া অথৈ (১৭), ঢাকা; মাঈশা আনজুম আরিফা (১৭), খুলনা।