কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। তবে কোনও অগ্রগতির খবর মেলেনি।
Published : 23 Sep 2026, 05:04 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলমান সংঘাতের সমাধান না হলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার দিনেই নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।
কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। গত জুনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম আলোচনা। তবে বৈঠক থেকে কোনও অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।
উইটকফ বলেছেন, এক দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। আমরা আশা করি আলোচনার এই পর্ব গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক প্রমাণিত হবে। অন্যদিকে, ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের 'আগ্রাসী কর্মকাণ্ড' বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের ওপর হামলা চালায়। একইসঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হত।
প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন থাকায়।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প প্রথমে অর্থনীতি, অভিবাসন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সহিংস অপরাধ মোকাবেলায় তার সরকারের অর্জন তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য জাতিসংঘের সম্মেলনকক্ষে থাকা কূটনীতিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের মতোই বেশি শোনাচ্ছিল।
ভাষণের বড় একটি অংশে ট্রাম্প ইরানে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে।
ট্রাম্প এমন এক নীতির কথা বলেন, যেটিকে তিনি শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা হিসেবে বর্ণনা করেন। আর তা হচ্ছে, সমঝোতা বা আপসের পরিবর্তে কঠোর আল্টিমেটাম ও হুমকি দেওয়া।
তিনি বলেন, 'ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে তারা আবার গড়ে উঠতে পারবে এবং আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী একটি দেশ হয়ে উঠতে পারবে?
“নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুতই করব, যাতে তারা আবার মানুষ ও বিভিন্ন দেশকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?”
ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারা ট্রাম্পের এমন সব কথা তার পররাষ্ট্রনীতির কৌশলেরই ইঙ্গিত। এই কৌশলে তিনি একদিকে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে- আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও খোলা রাখছেন।