সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
পাকিস্তানের কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি মসজিদে লোকজন জড়ো হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
Published : 19 Sep 2026, 05:05 PM
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইনে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে চালানো ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে শনিবার এক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার পুলিশ সদস্য ও তাদের স্বজনেরা যখন কমপ্লেক্সটির ভেতরের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি নিয়ে ফাঁড়িতে ঢুকে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটায়।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যেখানে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে দেশটির পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে।
এর আগে, পাকিস্তানের গণমাধ্যম ‘ডন’-কে খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের আইজি জুলফিকার হামিদ জানান, প্রথমে একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ভবনটির গেটে ধাক্কা দেয়।
তিনি জানান, হামলাকারীদের একটি দল সন্ত্রাস দমন বিভাগের (সিটিডি) ভবনের দিকে এগোলে তাদের নিকেশ করা হয়। আর বাকি প্রায় তিনজন বিশেষ শাখার ভবনের দিকে ঢুকে পড়েছিল।
আইজিপি জুলফিকার হামিদের প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, কোহাট পুলিশ লাইনের একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে ধারণা করা হয়েছিল, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ভবনটিতে সরাসরি ধাক্কা দিয়েছে।
তবে পরবর্তীতে দেওয়া বিবৃতিতে হামিদ স্পষ্ট করেন, বিশেষ শাখা ভবনের কাছে এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরক দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর সেখানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি শুরু হয়।
‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’কে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে জানিয়ে আইজিপি হামিদ বলেন, “পুলিশের মনোবল অটুট রয়েছে।”
শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, কোহাট জেলার পুরনো পুলিশ লাইনের মসজিদের কাছে হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে আট সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।
‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের বোঝাতে দাপ্তরিকভাবে ব্যবহার করে থাকে।