আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন পাশের একটি কারখানার শ্রমিকদের যুক্ত করতে সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ধাওয়া দেয় পুলিশ।
Published : 22 Sep 2026, 07:41 PM
বকেয়া বেতনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছেন গাজীপুরের কোনাবাড়ীর হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার সকালে তাদের আন্দোলনে যুক্ত হতে পাশের পি এন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকদের অনুরোধ জানিয়ে ওই কারখানার গেইটে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ধাওয়া দেয় পুলিশ। এ সময় শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কোনাবাড়ীর আমবাগ মিতালি ক্লাব এলাকার হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা মিতালী ক্লাব থেকে কোনাবাড়ী নতুন বাজার আঞ্চলিক সড়ক দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ করেন।
স্থানীয় শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন না পেয়ে এবং বারবার কারখানা বন্ধের নোটিসে অসন্তোষের কারণে সোমবার থেকে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।
আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার আশেপাশে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আরেকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদেরকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ করেন হানিওয়েল গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।
এ সময় শিল্প পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে হানিওয়েল গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কারখানার আশেপাশে অবস্থান করছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ১০ তারিখে তাদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা রুম ভাড়া ও দোকানের বাকি দিতে পারছেন না। আন্দোলনে পুলিশও তাদের সহযোগিতা করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। পরে তারা পার্শ্ববর্তী অন্য আরেকটি কারখানায় হামলা করতে গেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ অবস্থান করছে বলে জানান শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা।