অন্য চোখে

আশনা আনজুম (১৭), ঢাকা

Published: 2017-06-11 18:37:33.0 BdST Updated: 2017-06-11 18:39:12.0 BdST

‘এই শহর, যাদুর শহর প্রাণের শহর ঢাকা রে
এই শহর, যাদুর শহর প্রাণের শহর আহা রে!’

রাজধানী ঢাকা নিয়ে তৈরি গানটি শুনতে শুনতে বারবার একটি প্রশ্ন মনে পড়ে যায় আমার। আচ্ছা, আজ থেকে একশ বছর আগে ঠিক কেমন ছিল এই যাদুর শহর?   

চিরচেনা ব্যস্ত এ শহর কী এই রকম ব্যস্ত থাকত এখন যেমন? নাকি জনবিরল, ছিমছাম, পৃথিবীর শান্ত শহরগুলোর একটি ছিল?  

নিজের এরকম প্রশ্নের উত্তর পেতে খুঁজতে লাগলাম ঢাকার ইতিহাস; একসময় পেয়েও গেলাম। মুনতাসীর মামুন রচিত 'ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী'-বইটি পড়ে মনে হল, কিছু অবাক করা তথ্য সবাইকে জানালে মন্দ হয় না। সে চিন্তা থেকেই ঢাকার কিছু নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আজকের এ লেখা।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আমাদের চিরচেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ইতিহাস। বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং পিছিয়ে থাকা পূর্ববঙ্গকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার কয়েকজন নামকরা ব্যক্তিত্ব ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি জানান।

তৎকালীন সরকার এ দাবি আমলে নিলেও নানা আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিবন্ধকতার শেষে প্রায় নয় বছরের মাথায় ১৯২১ সালে তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০জন শিক্ষক, আটশ ৭৭ সাতাত্তর জন ছাত্র ও তিনটি আবাসিক হল নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন পি জে হার্টগ। তাছাড়া প্রথম থেকেই এর শিক্ষক তালিকা ছিল ঈর্ষণীয়। সত্যেন বোস, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, মুহম্মদ শহিদুল্লাহসহ ছিলেন এমনই আরও অনেকে। এত সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী হয়েও এ প্রতিষ্ঠানকে বারবার অবদমিত হতে হয়েছে শাসকশ্রেণীর কাছে, কেননা এ বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা সোচ্চার থেকেছে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে।

এদিকে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইতিহাসও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। কলকাতা মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ভিড় দিনে দিনে বাড়তে থাকায় তৎকালীন গভর্নর স্যার জর্জ ক্যাম্পবেল ১৮৭৩ সালে ঢাকায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৮৭৫ সালের ১৫ জুন ঢাকা মেডিকেল স্কুলের ক্লাস শুরু হয়েছিল।

এ স্কুলের উন্নতির জন্য বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তির অর্থায়ন এবং শিক্ষকদের প্রয়াসে স্কুলটি একসময় সাফল্যের মুখ দেখে। ১৯৬২ সালে একে রূপান্তর করা হয় কলেজে এবং নাম দেয়া হয় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

ঢাকার প্রাচীন স্কুলগুলোর মধ্যে সেন্ট গ্রেগ্ররি স্কুলের কথা না বললেই নয়। ১৮৯২ সালের জানুয়ারি মাসে ফাদার গ্রেগ্ররি প্রধানত ইংরেজদের জন্য স্থাপন করেছিলেন স্কুলটি। মূলত ইউরোপিয়ান স্কুল হওয়ায় খুব কম বাঙালি পড়ার জন্য সুযোগ পেতেন এখানে। এ স্কুল থেকে পাশ করেছেন অনেক খ্যাতিমান লেখক, রাজনীতিক। এদের মধ্যে তাজউদ্দীন আহমেদ, ড.কামাল হোসেন, অমর্ত্য সেন উল্লেখযোগ্য।

১৯১২ সালে এ স্কুলে মেয়েদের জন্য একটি আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয় যা পরবর্তীতে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার স্কুলে রূপ নেয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত