পৃথিবীর মোট স্বাদু পানির প্রায় ৭০ শতাংশ হিমবাহে সংরক্ষিত রয়েছে।
Published : 22 Mar 2025, 11:30 AM
পৃথিবীতে স্বাদু পানির যত উৎস আছে তারমধ্যে অন্যতম হল—গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ। কেননা, বিশ্বে যে পরিমাণ পানীয় জল আছে তারমধ্যে অর্ধেকের বেশি সঞ্চিত থাকে এসব বরফস্তূপে। তবে, হিমবাহের দ্রুত গলনের ফলে মানব অস্তিত্ব টিকে থাকবে কিনা তা ভাবিয়ে তুলছে গবেষকদের।
হিমবাহ কী?
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত পাহাড়ে বহু বছর ধরে তুষার জমতে জমতে তা শক্ত বরফে পরিণত হয়। যা একসময় বিশালাকার হিমবাহে রুপ নেয়। এসব বরফখণ্ড ওজনের ভারে ও মাধ্যাকর্ষণের টানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
গরমে হিমবাহ ধীরে ধীরে গলতে থাকে। এরপর এসব পানি বিভিন্ন নদ-নদী, হ্রদ বা ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যায়।
হিমবাহ আমাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের হিমবাহের পানি মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানীয় জল সরবরাহের পাশাপাশি চাষাবাদের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্যমতে, পৃথিবীর মোট স্বাদু পানির প্রায় ৭০ শতাংশ হিমবাহে সংরক্ষিত রয়েছে। যা ২০০ কোটির বেশি মানুষের জন্য নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে কাজ করে।
হিমবাহ গলার বিপদ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। যা মানব অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শুধুমাত্র সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো মোট বরফের ১০ শতাংশ হারিয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর একটি বড় অংশ গলে গিয়েছে।
তাজিকিস্তানেও এর চিত্র ভয়ানক। সরকারি এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক দশকে দেশটির প্রায় ১,০০০ হিমবাহ সম্পূর্ণরূপে গলে গেছে। এর ফলে এই অঞ্চলের পানি নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
হিমবাহ গলে শুধু পানি সঙ্কট তৈরি করতে পারে, তা নয়। এটি আমাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখেও ঠেলে দিতে পারে। দ্রুত গলনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে তলিয়ে যেতে পারে উপকূলীয় এলাকা। এর ফলে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর পরিণতি হতে পারে খুবই ভয়াভহ।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়, আন্ডাস এবং আল্পস অঞ্চলে হিমবাহ গলার ফলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদের বিস্ফোরণ ঘটছে, যা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি করছে।
হিমবাহ সংরক্ষণ কীভাবে সম্ভব?
হিমবাহ সংরক্ষণ বিষয়ে বেশ কয়েকটি নিবন্ধ ও প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে তারা বলেছেন, হিমবাহ সংরক্ষণ করতে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ খুবই প্রয়োজন। এরজন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
এছাড়াও, স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মত বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেগুলোর মাধ্যমে হিমবাহ গলার হার পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এভাবে নজরদারি করলে জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া সহজ হবে।
প্রতিবেদকের বয়ষ: ১৩। জেলা: ঢাকা।