জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ৪৩ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক তৈরি হয়।
Published : 26 Oct 2026, 08:15 PM
প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত একটি উপাদান। পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, বাজারের ব্যাগসহ নানা কাজে আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করি। এটি হালকা, সহজে বহন করা যায় এবং দামও তুলনামূলক কম। তাই অনেক কাজেই প্লাস্টিক আমাদের জীবন সহজ করেছে। কিন্তু ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ৪৩ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক তৈরি হয়। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অল্প সময় ব্যবহারের পর বর্জ্যে পরিণত হয়। এসব বর্জ্যের একটি অংশ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আমাদের আশপাশে তাকালেই প্লাস্টিকের দূষণের চিত্র দেখা যায়। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পলিথিন, নালায় জমে থাকা প্লাস্টিকের প্যাকেট কিংবা খাল-নদীতে ভাসতে থাকা বোতল পরিবেশের ক্ষতি করে। প্লাস্টিকের বর্জ্যে নালার পানি চলাচল বন্ধ হতে পারে। আবার জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও বিপদের কারণ হতে পারে।
প্লাস্টিক সহজে মাটিতে মিশে যায় না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভেঙে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়, যেগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এসব ক্ষুদ্র কণা পানি, মাটি ও খাদ্যশৃঙ্খলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাহলে কি প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব? বাস্তবে অনেক প্রয়োজনীয় কাজেই প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়। তবে অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো আমাদের পক্ষে সম্ভব। বাজারে গেলে কাপড়ের ব্যাগ নিতে পারি, বারবার ব্যবহার করা যায় এমন পানির বোতল বেছে নিতে পারি এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারি।
প্লাস্টিক ব্যবহারের সময় আমরা এর সুবিধা দেখি, কিন্তু ব্যবহারের পর এর পরিণতি নিয়ে সব সময় ভাবি না। অথচ পরিবেশের ক্ষতি কমাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার যেমন বিবেচনা করা জরুরি তেমনই ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: কিশোরগঞ্জ।