বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়ার স্মৃতি রক্ষার্থে তার অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হল। তিনি বৃহস্পতিবার ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন - হ্যালো
Published : 14 Dec 2025, 08:09 PM
দেশের প্রতি অকৃত্রিম টান থেকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন গাজীপুরের যুবক আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলির গল্প শুনিয়েছেন।
হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের আগে আপনি কী করতেন?
আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া: মুক্তিযুদ্ধের আগে আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। সে সময় বাঙালিদের জন্য কমিশনড অফিসার হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। স্বাধীনতার পর আমি বাংলাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) যোগদান করি।
হ্যালো: কেন মনে হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে হবে?
আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া: দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে আমি যুদ্ধে অংশ নিই। তখন পাকিস্তানি অফিসাররা বাঙালিদের সবসময় অবজ্ঞার চোখে দেখত এবং নানা ধরনের অন্যায় সহ্য করতে হত। আমার পরিবার আমাকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। আমার সঙ্গে আমার দুই ভাইকেও যুদ্ধে পাঠাতে পরিবার উৎসাহ দিয়েছিল, পরবর্তীতে তারাও যুদ্ধে যোগ দেয়।

হ্যালো: আপনি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া: মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পঞ্চগড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিই। পরে আমি ৩ নম্বর সেক্টরে ফিরে গিয়ে যুদ্ধ করি।
হ্যালো: একাত্তরের এমন কোনো স্মৃতি আছে কি, যা আজও ভুলতে পারেন না?
আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া: যুদ্ধের শেষের দিকে গাজীপুরের রাজাবাড়ির ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি আজও আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তখন ওই ব্রিজটিই ছিল গাজীপুর থেকে কাপাসিয়ায় যাওয়ার একমাত্র সড়কপথ। ব্রিজটি ধ্বংস হওয়ার ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর রসদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে থেকে সেনা সহায়তা পাওয়াও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এতে তারা দিশেহারা হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং কাপাসিয়া শত্রুমুক্ত হয়।
হ্যালো: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মুহূর্তে আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া: পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর পেয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম।

হ্যালো: দেশের শিশু-কিশোরদের জন্য আপনার বার্তা কী?
আহাম্মেদ আলী ভূঁইয়া: তোমরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করবা। পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হও। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ কর। তোমাদের কাছ থেকে এটাই আমার চাওয়া-পাওয়া।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: গাজীপুর।